দুর্গাপুর: তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজির’ (Money Extortion) অভিযোগকে অন্যতম হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু বদলের বাংলায় তবুও থামেনি তোলাবাজির অভিযোগ। শীর্ষ নেতৃত্ব অভয় দিলেও বাস্তব চিত্র যে সম্পূর্ণ ভিন্ন তারই ফের প্রমাণ মিলল দুর্গাপুরে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকলেই দিতে হবে ‘তোলা’?
দুর্গাপুরের গান্ধী মোড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে বেরনোর সময় একটি ICU অ্যাম্বুল্যান্স আটকে ৫ হাজার টাকা দাবি (Money Extortion) করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করতেই শুরু হয় বচসা, এরপরই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ও টেকনিশিয়ানকে মারধরের অভিযোগ।
ঘটনায় গুরুতর আহত হন টেকনিশিয়ান। তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়ায় উত্তেজনা।
অভিযোগ, রবিবার রাতে গান্ধী মোড়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছয় একটি ICU অ্যাম্বুল্যান্স। রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুল্যান্সটি আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি। অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডের এক ব্যক্তি, মানিক ধীবরের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা দাবি (Money Extortion) করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর চালক ও টেকনিশিয়ানকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় টেকনিশিয়ানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অ্যাম্বুল্যান্স মালিক নিজামুদ্দিন মল্লিকের দাবি, রোগীর আত্মীয়ের ফোন পেয়েই অ্যাম্বুল্যান্সটি সেখানে পৌঁছেছিল। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছনোর পরই টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রোগী নিয়ে বেরোতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। ঘটনায় মানিক ধীবরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির (Money Extortion) অভিযোগ তুলে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়ালেও বর্তমানে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ( Money Extortion) ও মারধরের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানিক ধীবর।অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝেই এখন প্রশ্ন, রোগীর অ্যাম্বুল্যান্স আটকানো হয়েছিল কেন? সত্যিই কি ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল? আর যদি হয়ে থাকে, হাসপাতাল চত্বরে এমন ‘তোলা’র অভিযোগের নেপথ্যে কারা? ঘটনার তদন্তে সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।


