Aaj India Desk, নয়াদিল্লী: ভারতে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে নতুন প্রজন্মের ই-পাসপোর্ট (E-Passport) বা ডিজিটাল পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টে একটি বিশেষ মাইক্রোচিপ (Microchip) থাকবে, যেখানে পাসপোর্টধারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এর ফলে জাল পাসপোর্ট (Fake passport) তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন হবে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
তবে নতুন পাসপোর্ট চালুর ঘোষণা ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট আসলে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। এটি শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত সরকারি নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট। এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে একজন ভারতীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রমাণের মূল নথি কোনটি?
বিরোধী দলগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। কারণ গত কয়েক বছরে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এমনকি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আদালতও পাসপোর্টকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও পাসপোর্টের ভিত্তিতে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, তাহলে পাসপোর্ট দেখিয়ে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তাঁদের অবস্থান কী? পাসপোর্ট আইনও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ১৯৬৭ সালের সংশোধিত পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই ভারতীয় পাসপোর্ট দেওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, যার ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে তিনি ভারতীয় নাগরিক। তবে বিদেশ মন্ত্রকের পাসপোর্ট বিভাগ বলছে, পাসপোর্ট কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এটি মূলত এমন একটি নথি, যার মাধ্যমে সরকার কাউকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয়।
সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘জাতীয়তা’ (Nationality) এবং ‘নাগরিকত্ব’ (Citizenship) এক বিষয় নয়। পাসপোর্টের আবেদনে একজন ব্যক্তির জাতীয়তা জানতে চাওয়া হয় এবং আবেদনকারী নিজেকে ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে বিভিন্ন নথি ও পুলিশ যাচাইয়ের মাধ্যমে সেই তথ্য পরীক্ষা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয়তা সাধারণত জন্মস্থান, পারিবারিক উৎস বা কোনও দেশের সঙ্গে ব্যক্তির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে বোঝায়। অন্যদিকে নাগরিকত্ব হলো রাষ্ট্রের দেওয়া একটি আইনি মর্যাদা, যার মাধ্যমে ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার পাওয়া যায়।
জাতীয়তা সাধারণত জন্মসূত্রে পাওয়া যায়। নাগরিকত্বও জন্মসূত্রে পাওয়া যেতে পারে, আবার আইনি প্রক্রিয়া, বিবাহ বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব। সরকারি মহলের একাংশের মতে, কোনও একক নথি দিয়ে নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করা সবসময় সম্ভব নয়। তবে জন্মসনদ, সরকারি রেকর্ড এবং অন্যান্য আইনসম্মত নথি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশের অভিযোগ, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাঁদের দাবি, সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন নথিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।


