Aaj India Desk, বীরভূম : বছরের পর বছর মাটির নিচে চাপা ছিল রঙিন পলিমার ব্যাগ। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ বাড়ি, কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হতেই একের পর এক বেরিয়ে আসে নগদ টাকার বান্ডিল ও সোনার বিস্কুট। সেই উদ্ধার অভিযানের পরেই বীরভূম জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। (Birbhum Gold Seizure)
মাটির নিচে উদ্ধার বিপুল সম্পদ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ির সনাতনপাড়ার বাসিন্দা তথা পাথর ব্যবসায়ী তুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশির সময় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ মানি কাউন্টিং মেশিনে গণনা করা হচ্ছে। পুরো অভিযান এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। (Birbhum Gold Seizure)
কে এই তুলু মণ্ডল?
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে তুলু মণ্ডল বাড়িতে টোল খুলে ব্যক্তিগত শিক্ষকতা করতেন। পরে ধাপে ধাপে পাথর সরবরাহ ও স্টোন ক্রাশার ব্যবসায় প্রবেশ করেন। ২০১৪-১৫ সালের দিকে তাঁর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। এরপর ২০১৬-১৭ সাল থেকে বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদানে সরকারি ডিসিআর (DCR) সংগ্রহের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। (Birbhum Gold Seizure)
ডিসিআর দুর্নীতির অভিযোগ
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ডিসিআর আদায়ে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি করা হয়েছে। মিনার মণ্ডল, যার বাড়ি থেকে নগদ ও সোনা উদ্ধার হয়েছে, তিনি তুলু মণ্ডলের এক আত্মীয় এবং পাথর খাদানের ডিসিআর সংক্রান্ত টোলগেট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই উদ্ধার হওয়া সম্পদের সঙ্গে তুলু মণ্ডলের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা তুলু মণ্ডলের বেনামি সম্পদের অংশ হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে সংগৃহীত অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইয়ে পাঠানো হতো। তাঁর দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন ২০-৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ হতো, বর্তমানে তা মাসে প্রায় ৮৩ কোটিতে পৌঁছেছে।


