Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত সমাবেশ থেকে বিজেপি সরকার (BJP Government) ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভার শুরুতেই ব্যাপক ভিড়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও, পরে পরিস্থিতি সামলে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেন তিনি। মমতার দাবি, খুব শীঘ্রই বাংলার রাজনীতিতে ফের পরিবর্তন আসবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকার গঠন করবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছতেই ভিড় আরও বেড়ে যায়। বহু কর্মী-সমর্থক গার্ডরেল টপকে মঞ্চের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর জেরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে রাস্তায় বেশ কিছু গাড়ি আটকে পড়ে। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সভার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেই উদ্যোগ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটকে থাকা গাড়ি ও অ্যাম্বুল্যান্স যাতে বেরিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এরপর ফের মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। বক্তব্যে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে মমতা বলেন, তাঁকে রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হবে না—এমন কথা বলা হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, ‘এত বড় সাহস কোথা থেকে আসে?’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু ক্ষমতার জোরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের দাপট ও অত্যাচার চলছে। তবে সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি বেশিদিন মেনে নেবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, তাঁরা যেন কোনওভাবেই ভয় না পান। বিজেপির অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির লোকেরাই একদিন জবাব দেবে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বড় ঘোষণা, খুব তাড়াতাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস আবার রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে।
এদিন রাজ্য পুলিশ এবং বিজেপির বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার দাবি, প্রতিদিন রাতে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু মদ্যপ মানুষকে পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও বিজেপির নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি নেই বলে দাবি করে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশকে ব্যবহার করে বিজেপির হয়ে কাজ করানো হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই ধরনের ঘটনায় প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ‘অত্যাচার’ আর মেনে নেওয়া হবে না।


