Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পর এবার নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খান্নার (Seema Khanna) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানান কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভোটার-তালিকা সংক্রান্ত সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকদের অগোচরে ভোটার তথ্যের হেরফের করা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করার মতো মামলা তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ৬ অক্টোবর তিনি ফের থানায় গিয়ে অভিযোগের আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
মহুয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ECINet এবং ভোটার তালিকা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের ‘ব্যাক-এন্ড’ ব্যবহার করে স্থানীয় ERO ও BLO-দের ভূমিকা এড়িয়ে ভোটার তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে।
সীমা খান্নাকে (Seema Khanna) ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয় দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুকবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী ভোটার তালিকার ডেটাবেসের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয়করণ এবং মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের সফটওয়্যার-অ্যাক্সেস নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। DG (IT) সীমা খান্নার বিভাগ দিল্লি থেকে সফটওয়্যারে কী কী কাজ করা যাবে, তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। একই সঙ্গে ERO-দের আইনসিদ্ধ ক্ষমতা সফটওয়্যার দ্বারা সীমিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও কমিশনের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছিল।
উল্লেখ্য, সীমা খান্নার (Seema Khanna) ভূমিকা নিয়ে তৃণমূলের প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কেন্দ্রীয় আইটি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। স্থানীয় স্তরে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় লাগলেও কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এবার সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া মৈত্র। এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ করেছিলেন তিনি। ফলে ভোটার তালিকা, SIR এবং ECINet ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের সংঘাত আরও প্রকাশ্য হয়েছে।


