Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী সভা থেকে সেই নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী ঘোষণা করেন শুভেন্দু ?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের থেকে প্রতি পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে।
ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকা গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতির কারণে বহু কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং অনেকের ব্যবসা বা বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, যাঁরা রাজনৈতিক হিংসা, মিথ্যা মামলা বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, “যাঁদের রুজি-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, তাঁদের পাশে সরকার থাকবে। নতুন প্রশাসনে কেউ আতঙ্কে থাকবে না।”
কী ঘটেছিল ২০২১ এর নির্বাচনে ?
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং খুনের অভিযোগ সামনে আসে। প্রথম দিকে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ৫০-এর বেশি কর্মী নিহত হন বলে বিজেপি দাবি করলেও পরবর্তীতে দলীয় স্তরে সেই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৩২১ জন “শহিদ কর্মী”-র তালিকার কথা বলা হয়। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর তৃনমূল কর্মীরাই হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার রাজনৈতিক অপপ্রচার করা হচ্ছে।
তবে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) পর থেকেই ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বা আক্রান্ত পরিবারগুলির জন্য চাকরি ও পুনর্বাসনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে মানবিক পদক্ষেপ। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য একই ধরনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা কোথায়? বহু স্টেশন ও শহরাঞ্চলে বছরের পর বছর ছোট দোকান বা হকারি করে সংসার চালানো মানুষদের হঠাৎ উচ্ছেদের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না, শুধু জীবিকার জন্য ফুটপাথে বসেছিলেন। অথচ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা হলেও, জীবিকা হারানো হকারদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিকল্প বাজার বা আর্থিক সহায়তার স্পষ্ট রূপরেখা এখনও সামনে আসেনি। ফলে প্রশাসনের মানবিকতার মাপকাঠি নিয়ে নতুন করে উঠছে প্রশ্ন ।


