স্নেহা পাল, লখনউ: ভারতীয় সংবিধানের (Indian Constitution) ১৯ নম্বর ধারায় সকল নাগরিকের বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার (Freedom of Speed and Expression) কথা বলা আছে। এটি দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কিন্তু সেই অধিকার বাস্তবে হয়ত কাগজের পৃষ্ঠাতেই আবদ্ধ।
সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে ভিডিও পোস্ট করায় ১৪ বছর বয়সী অস্মিত গৌতমের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে FIR । যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করেনি পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার বাসিন্দা অস্মিত গৌতম এক সাধারণ দলিত পরিবারের সন্তান। বয়স কম হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা সাত লক্ষের বেশি। স্কুলে যাতায়াতের সময় বা গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি রিল ভিডিও তৈরি করেন এবং সেগুলি পোস্ট করেন @ashwamitlifestyle হ্যান্ডেলে।
এই ভিডিওগুলিতে অস্মিত সরকারি স্কুলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মিড-ডে মিলের মান, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও দূষণের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যে রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং নিজের চারপাশের বাস্তব চিত্রের প্রতিফলনই বেশি দেখা যায়।
১৪-১৫ জানুয়ারির দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, অস্মিতের কিছু ভিডিওকে ‘আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে লখনউ পুলিশে FIR দায়ের করেছে। অভিযোগ, ভিডিওগুলিতে সরকারের সমালোচনা এমনভাবে করা হয়েছে যা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
এই ঘটনার পরেই টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে #I_Stand_With_Ashmit_Gautam হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। বহু ব্যবহারকারী একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার (Freedom of Speed and Expression) উপর আঘাত বলেও উল্লেখ করছেন। গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ হতে পারে না বলেই তাদের মত।
এই ঘটনা নতুন করে বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার (Freedom of Speed and Expression) বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কিত পুরনো প্রশ্নকে তুলে ধরছে । সংবিধানে এই অধিকার মৌলিক হলেও, সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলার সীমা কোথায় তা নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে। অস্মিতের বিরুদ্ধে এফআইআর সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকবে। তবে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করবে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কি বার্তা দেয়।


