স্নেহা পাল, কৃষ্ণনগর: রবিবার দুপুরে চাপড়ার রোড শোয়ের পর কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার কর্মী ও নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনের ঋণ তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে শোধ করবেন। একই সঙ্গে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে নদীয়ার মাটিতে এসে তৃণমূলের শক্তি দেখে যাওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
কৃষ্ণনগরে দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, চতুর্থবার তৃণমূলের জয় বিষয়ে তিনি নিঃসংশয়। সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে সর্বদাই উন্নয়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, যারা তৃণমূলকে দুর্বল ভাবে এবং নিপীড়ন, বঞ্চনা ও শোষণের রাজনীতি করে, তারা চাপড়ার মাটিতে এসে বাস্তব পরিস্থিতি দেখে যাক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলার মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি SIR ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করতে চাইছে।
পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, তেহট্টের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ড্রেন নির্মাণের নামে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাটনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান সরস্বতী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এছাড়াও কৃষ্ণনগরে বিজেপির অবৈধ পার্টি অফিস পরিচালনার অভিযোগ তুলে তিনি জানতে চান এমন দল কীভাবে বাংলার দশ কোটি মানুষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো প্রকল্প আটকে দিয়ে মানুষকে শাস্তি দিতে চাইছে।
ধর্মীয় প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “পরিবর্তন দরকার, যারা আগে ‘জয় শ্রী রাম’ বলে সভা শুরু করত, তাদের বাংলায় ‘জয় মা কালী’ বা ‘জয় মা দুর্গা’ বলে সভা শুরু করা শিখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ ও সর্বশক্তিমান ভগবানের পা ধরবেন , কিন্তু বহিরাগত শক্তির কাছে তিনি বা তৃনমূলের সদস্যরা মাথা নত করবেন না।
কৃষ্ণনগরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্নকেই মূল হাতিয়ার করতে চাইছে। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বঞ্চনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নদীয়ার রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাত আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


