Aaj India Desk, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি (BJP) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) চালু করা হবে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, পরের বৈঠকেই সপ্তম পে কমিশন নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই আশায় রয়েছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ (DA)-র দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এবার সরকারের এই ঘোষণার পর তাঁদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সপ্তম পে কমিশন হল কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি একটি বেতন সংস্কার ব্যবস্থা, যা সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশনের কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করে। ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখনও মূলত ষষ্ঠ পে কমিশনের ভিত্তিতেই বেতন দেওয়া হয়।
সপ্তম পে কমিশন চালু হলে শুধু বেসিক বেতনই নয়, ডিএ, বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও চিকিৎসা ভাতাতেও বৃদ্ধি হতে পারে। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের অঙ্কও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে চাকরিরত কর্মীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পেতে পারেন।
তবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, আগে পুরনো বকেয়া ও বঞ্চনার সমস্যার সমাধান করা উচিত। অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অশোক প্রামাণিক বলেন, ষষ্ঠ পে কমিশনে ডিএ নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। সেই কারণে কর্মচারীদের আদালতের দ্বারস্থও হতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অনেক বিষয় পরিষ্কার না করেই রোপা রুল প্রকাশ করা হয়েছিল। তাই সপ্তম পে কমিশন চালুর আগে পুরনো বকেয়া ও এরিয়ার মিটিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতন অনেকটাই বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সরকার কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।


