Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: আরজিকর (RGKar) কাণ্ডে এবার বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে তিন তদন্তকারী আইপিএস (IPS) অফিসার-বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিজেপি (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই জানিয়েছিল, আরজি কর মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করা হবে। সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই সেই তদন্তে নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
এবার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে সেই সব ব্যক্তিদেরও, যাঁরা ঘটনার রাতে তিলোত্তমার সঙ্গে ডিনার করেছিলেন। এই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিলোত্তমার মা। তাঁর দাবি, সেদিন সেমিনার রুম ও ক্রাইম সিনে এমন অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের সেখানে থাকার কথা ছিল না। তিনি অভিক, বিরুপাক্ষ, দেবাশিস সোম, প্রসূন চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
তিলোত্তমার মা আরও বলেন, “এখন অনেক কিছু সামনে আসছে। যারা জড়িত, সবাই একে একে ধরা পড়বে।” তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে কিছুই হয়নি। তিনি জানান, ঘটনার চার দিন পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলেন আসল অপরাধী ধরা পড়েছে। কিন্তু তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে তাঁরা প্রকৃত অপরাধী বলে মনে করেন না।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, আরজি কর মামলার তদন্ত ফের শুরু করা হবে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মা বিজেপির টিকিটে পানিহাটি থেকে বিধায়ক হয়েছেন। বুধবার তিনি আদালতে গিয়ে তিন জনের গ্রেফতারের দাবি জানান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। এরপরই সরকার তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিলোত্তমার মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।


