Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত অনুপ মাজি (Anup Maji)-কে নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রশ্নের মুখে পরতে হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-কে। আজ, মঙ্গলবার মামলার ছিল এই মামলার শুনানি। এইদিন আদালত জানতে চায়, পাঁচ বছর পর হঠাৎ কেন অনুপ মাজিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়ল।
বর্তমানে অনুপ মাজি অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছেন। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে ইডি। সেই আবেদন শুনে বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, আগে যখন তিনি সিবিআই হেফাজতে ছিলেন, তখন কেন ইডি তাঁকে জেরা করার উদ্যোগ নেয়নি।
যদিও ইডির দাবি, এই মামলায় প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। দেশের সম্পদের বড় ক্ষতি হয়েছে। তাই অনুপ মাজিকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন আছে বলে আদালতে জানায় তারা। তবে আদালত এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এতদিনে মামলার শুনানি অনেকটাই এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এত বছর পর আবার হেফাজতের আবেদন কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝির পাশাপাশি তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে বলে ইডির দাবি। এই মামলার তদন্তে গত বছরের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। আসানসোল, পুরুলিয়া, কলকাতা এবং ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি হয়।ইডির দাবি, ওই অভিযানে কয়েক কোটি টাকা নগদ, সোনার গয়না এবং প্রচুর বেআইনি কয়লা উদ্ধার করা হয়।
এই কয়লা পাচার নিয়ে আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। ২০২০ সালে আসানসোল, দুর্গাপুর-সহ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস (ECL)-এর বিভিন্ন খনি থেকে বেআইনিভাবে কয়লা তুলে পাচারের অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় ইসিএলেরই কয়েকজন প্রাক্তন আধিকারিক-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।সেই তদন্তের সূত্র ধরেই পরে আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি।
অন্যদিকে অনুপ মাজির আইনজীবী আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ২৩ বার তদন্তে হাজিরা দিয়েছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেন, ভোটের আবহে রাজনৈতিক কারণেই কেন্দ্রীয় ইডি এমন পদক্ষেপ নিতে চাইছে। শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সব পক্ষকে আগামী দু’মাসের মধ্যে নিজেদের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


