Aaj India Desk ,কলকাতা: বিধানসভা ভোটের গণনাকে সামনে রেখে তৃণমূল সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল। গণনার আগে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আলাদা আলাদা জেলার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ গণনার দিন যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সেই দিকেই লক্ষ্যে করে আগাম ময়দানে নামানো হয়েছে হেভিওয়েট নেতাদের।
দলীয় সূত্রে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার দায়িত্ব সামলাবেন সৌগত রায় ও পার্থ ভৌমিক। বারাসতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রথীন ঘোষকে। কলকাতা উত্তরের দায়িত্বে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, বিবেক গুপ্ত ও স্বপন সমাদ্দার। কলকাতা দক্ষিণে দায়িত্বে থাকছেন অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। অন্যদিকে হাওড়া জেলায় দায়িত্ব পেয়েছেন পুলক রায়, অরূপ রায়, কৈলাশ মিশ্র ও গৌতম চক্রবর্তী। হুগলির দায়িত্বে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানে দায়িত্ব পালন করবেন কীর্তি আজাদ ও রাজবিহারি হালদার। পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে রাখা হয়েছে পার্থ দে ও বাবুল সুপ্রিয়কে।মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে রয়েছেন জুন মালিয়া ও দেব। পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্ব সামলাবেন সায়নী ঘোষ ও কুণাল দাস। ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শত্রুঘ্ন সিনহা ও দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে। বাঁকুড়ায় দায়িত্বে রয়েছেন সুপ্রিয় ঘোষ। বীরভূমে দায়িত্ব পালন করবেন শতাব্দী রায়-সহ একাধিক নেতা। এছাড়াও মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুরের দায়িত্বে রয়েছেন আফিক ইকবাল। বহরমপুরে দায়িত্ব পালন করবেন প্রতীক উর রহমান ও সুখেন্দুশেখর রায়। মালদহে দায়িত্বে রয়েছেন দোলা সেন ও নাজমুল হক। দক্ষিণ দিনাজপুরের দায়িত্বে জয়প্রকাশ মজুমদার। ইসলামপুরে দায়িত্ব সামলাবেন শান্তনু সেন। দার্জিলিং সমতলের দায়িত্বে রয়েছেন গৌতম দেব এবং আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সামিকুল ইসলামকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট গণনার আগে এই দায়িত্ব বণ্টন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেলার নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সংগঠনকে আরও মজবুত করাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি গণনার দিন কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, বুথভিত্তিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং বিরোধীদের অভিযোগের মোকাবিলাতেও এই নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, “সংগঠনই আমাদের শক্তি, মানুষের জয়ই আমাদের লক্ষ্য।” আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গণনার আগে রাজ্যজুড়ে কার্যত অ্যাকশন মোডে নেমে পড়েছে শাসকদল।


