31 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

ভুয়ো ‘মাদ্রাসা’ গুজবে প্রশাসনের বুলডোজার! আংশিক ভাঙা পড়ল প্রস্তাবিত বেসরকারি স্কুল

স্নেহা পাল, ভোপাল: গত মঙ্গলবার ভুয়ো গুজবে মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) বেতুল জেলার ধাবা গ্রামে একটি প্রস্তাবিত বেসরকারি স্কুলকে ‘অননুমোদিত মাদ্রাসা’ (Madrasa) বলে চিহ্নিত করার জেরে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে আংশিক ভেঙে পড়ে স্কুল ভবন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল নঈমের স্বপ্ন ছিল এই স্কুল নির্মাণ। নঈম প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ঋণ ও পারিবারিক সঞ্চয় খরচ করে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার জন্য এই স্কুল গড়ে তুলছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ধাবা ও আশপাশের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলির শিশুদের কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া।

প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েতের অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই করে দেখা যায়, নির্মাণের একটি অংশ নাকি বেআইনি দখলের মধ্যে পড়েছে। সেই অংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। বেতুলের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) অজিত মারাভি বলেন, “পুরো ভবন ভাঙা হয়নি। কেবল নিয়ম লঙ্ঘন করা অংশ অপসারণ করা হয়েছে। সব প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি।”

তবে এই দাবি মানতে নারাজ নঈম। তাঁর বক্তব্য, তিনি বাণিজ্যিক জমি ডাইভার্সনের অনুমতি, গ্রাম পঞ্চায়েতের NOC এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরে আবেদন, সবই করেছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলের অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা দেন বলেও জানান তিনি। নঈমের অভিযোগ, ধ্বংসের তিন দিন আগে গ্রামে গুজব ছড়ায় যে সেখানে মাদ্রাসা তৈরি হচ্ছে। “এই গ্রামে মাত্র তিনটি মুসলিম পরিবার। অসম্পূর্ণ একটি ভবনে কীভাবে মাদ্রাসা (Madrasa) চলবে?” প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

১১ জানুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েত নোটিস দিয়ে নিজে থেকে ভবন ভাঙার নির্দেশ দেয়। নঈম বলেন, তিনি জবাব দিতে গেলে পঞ্চায়েত অফিস তাঁর আবেদন নিতে অস্বীকার করে। এরপর ১৩ জানুয়ারি তিনি ও কয়েকজন গ্রামবাসী জেলা কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে গেলে, সেই সময়েই পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে জেসিবি দিয়ে ভবনের একটি অংশ এবং সামনের শেড ভেঙে দেওয়া হয়।

যেখানে শিক্ষাই ভবিষ্যৎ গড়ার মূল হাতিয়ার , সেখানে আজ গুজব ও ধর্মীয় পরিচয়ের সন্দেহ সেই উদ্যোগকে থামিয়ে দিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ধর্মীয় গুজব এবং শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের উচ্চস্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নঈম ও গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন