SPECIAL FEATURE
বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতে হাতে গোনা আর কয়েকটা ঘন্টা বাকি ,১৪২ আসনে মধ্যে হুগলি জেলা তেই রয়েছে ১৮ টি আসন , আর আমি সেই হুগলি জেলারি বাসিন্দা ।
সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে সকাল সকাল হোস্টেল থেকে ফিরে পড়লাম বাড়ি.. কাল থেকে নাকি বাস বন্ধ , চললেও কম চলবে , মায়ের অর্ডার ভোট দিতেই হবে , নাহলে নাকি এস আই আর (SIR) এর নাম বাদ যাবে , বেকার তর্ক না বাড়িয়ে ঝোলা-কম্বল গুটিয়ে রওনা দিলাম বাড়ির পথে , ট্রেনে উঠলাম জায়গা দখল করলাম জানালার পাশেই , দুপুরের সময় ট্রেন বেশ ফাঁকা ।
ফলত বিশাল বগিতে থাকা প্রতিটা মানুষের মুণ্ডু পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম , হাত খানেক দূরে বসে আছেন মধ্য বয়স্ক দুই কাকিমা ” শুনেছো দিদি বলেছে পুজোতে ১০ হাজার টাকা দেবে ” অন্য মহিলা তখন উত্তর দিলেন ” দূর তাই আবার দেই নাকি ? সবাই কে ১০ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব ? এই কাকিমার কথায় যুক্তি আছে ! কি বলেন ? পরের কাকিমা তখন তাকে থামিয়ে বলে
” দেখ মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তাই দিয়েছেন , ওর কথার দাম আছে , দেখলি না লক্ষীর ভান্ডার ৫০০ থেকে আজ ১৫০০ তে এসেছে , ” “তা ঠিক”, যুক্তি দিয়ে কথা বলা কাকিমা টার উত্তরটা ছিল ঠিক এতোটুকুই , তবে এই কাকিমার কথা থামেছে না কিছুতেই তিনি আবার ধরলেন। ” পুজোয় ১০ হাজার টাকা আমার ছেলে কখনো দেবে না ,খুব বেশি একটা শাড়ি , কিন্তু দিদি ? আমাদের দিচ্ছেন , প্রতি মাসে ১৫০০ ওই টাকা আমার নিজস্ব , ”
এতক্ষণ পর্যন্ত কথাগুলো বেশ মন দিয়ে শুনছিলাম, কিন্তু তারপর আর নিতে পারলাম না , হেডফোনটা কানে ঢুকিয়ে গান শুনতে শুরু করলাম , বুঝিলাম রাজ্যে ভাতার কত দাপট ।
রাজ্য জুড়ে “ভাতার” বিস্তার প্রখর , রাজ্য রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভাতার মডেল। তৃণমূল থেকে বিজেপি এমন কি কংগ্রেস ও বাদ নেই এই লড়াইয়ে , বেকার ভাতাকে নিয়ে চলছে টানা-ছেঁড়া, তৃণমূল যেখানে ১৫০০ দিচ্ছে , বিজেপির দাবি ৩০০০ দেবে , পাশাপাশি কংগ্রেসও বাদ যায় কেন সেও বলেছে ২০০০ দেবে। রাজ্য রাজনীতিতে যখন ভাতা নিয়ে উৎসাহ প্রবল ঠিক তখনই ধো করে রাজ করতে চলে এলো “দুর্গাশ্রী” (Durgashree)।
সোশ্যাল মিডিয়ার জামানায় এই প্রকল্পের নাম আর কারোরই অজানা নয়। তবে আপনি জানেন কি? দুর্গাশ্রী আসলে মিথ্যা প্রচার ?
সত্য উদঘাটন
ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাটি যদি বিশ্লেষণ করেন তাহলে দেখবেন ঘটনাটি গত 5 – 7 দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াছে , নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বলে ভোটের দিন গণনার পর নতুন করে কোন প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা যায় না। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট বেগেছে ১৫ ই মার্চ আর আচরণবিধি চালু হয়েছে ১৬ ই মার্চ ।
তবে রাজ্য রাজনীতিতে এই প্রকল্পকে ইস্যু করে চলছে তর্ক -বিতর্ক। একাংশের দাবি “ইচ্ছাকৃতভাবে এই মিথ্যে প্রচার , ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা , নির্বাচন কমিশনের চাপে দিশাহারা অবস্থা শাসক দলের, তাই এখন অপপ্রচার কে হাতিয়ার করেছে। ”
যদিও শাসক শিবিরের দাবি “এই প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যে, এহেন বার্তা আমাদের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি, এটা এ আই (AI) নির্মিত, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সম্মানহানী করার চেষ্টা করছে, নির্বাচনের নিয়ম জানি , নিয়ম মেনে কাজ করি । ”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো হাজারো ফেক নিউজ এর মধ্যে এটাও একটা , বিরত থাকুন মিথ্যা প্রচার থেকে । রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের কোন ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি সুতরাং এই বার্তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ।


