স্নেহা পাল, মুর্শিদাবাদ: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া এখন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, ফারাক্কায় তা এক গভীর আস্থাসঙ্কটে পরিণত হয়েছে। বুধবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে (BDO) ঘটে যাওয়া অশান্তি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভোটার, BLO এবং প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাসের সেতুতে ভাঙন ধরেছে।
বুধবার SIR চলাকালীন ফারাক্কা BDO অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রায় ১০০ জন BLO একযোগে কাজের চাপ ও নির্দেশনার অস্পষ্টতার প্রতিবাদে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা শুনানি কক্ষ ভাঙচুর করে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে FIR দায়ের হয় এবং দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরিবর্তিত নির্দেশিকা ও অস্পষ্ট নিয়ম নিয়ে ক্ষোভ
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে বারবার পরিবর্তিত নির্দেশিকা ও অস্পষ্ট নিয়ম। BLO-দের অভিযোগ, একবার নথি আপলোড করার পরেও নতুন করে নথি চাওয়া হচ্ছে। বহু ভোটারকে এমন তথ্য প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে যা বাস্তবে সংগ্রহ করা অসম্ভব। ফলে BLO-রা একদিকে নির্বাচন কমিশনের চাপ, অন্যদিকে ভোটারদের ক্ষোভ , এই দুইয়ের মাঝে পড়ে কার্যত “বলির পাঁঠা” হয়ে উঠছেন।
শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ একসময় জনসমাবেশে রূপ নেয়। BLO-দের অবস্থান বিক্ষোভে রাজনৈতিক নেতারাও যোগ দেন। গেট বন্ধ, কাজ বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত শুনানি কক্ষ ভাঙচুর , ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ছে ভয়
সংখ্যালঘু ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রজেনি ম্যাপিং (progeny mapping) পদ্ধতিতে প্রায় ৯১.৪৬ লক্ষ যৌক্তিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অভিযোগ বলছে, এই প্রক্রিয়া বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। বহু ভোটার মনে করছেন, নাগরিক হিসেবে তাঁদের স্বাভাবিক অধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ফারাক্কার অশান্তি শুধু ভাঙা চেয়ার বা ছড়িয়ে থাকা ফাইলের ছবি নয়, এটি ভারতের গণতন্ত্র এবং ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এক বড় সতর্কবার্তা। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মানবিক সংবেদনশীলতা ছাড়া SIR-এর মতো প্রক্রিয়া যে গণতন্ত্রকে শক্ত না করে বরং দুর্বলও করতে পারে, ফারাক্কা এখন তার বাস্তব উদাহরণ।


