28 C
Kolkata
Thursday, April 16, 2026
spot_img

“বেয়াদপদের এভাবেই উত্তর দিতে হয়” : তৃনমূলের ‘ল্যুম্ফেনবাহিনীর’ বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি শুভেন্দুর !

Aaj India Desk, হাওড়া : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত বুধবারই হাওড়ার বালিতে বিজেপির রোডশো ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের জেরে গাড়ি থেকে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সমাজ মাধ্যমে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।

কী ঘটেছিল ? 

বুধবার দুপুরে লালবাবা কলেজ থেকে নিমতলা পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী সঞ্জয় সিংহের সমর্থনে রোডশো করছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গোস্বামীপাড়ায় পৌঁছতেই রাস্তার ধারে একদল যুবক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা। এরপরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার মাঝেই গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবাদকারীদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শুভেন্দু। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে থামান। ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির অভিযোগ 

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “কখনও কখনও বেয়াদপ মানুষদের এইভাবেই জবাব দিতে হয়। এইভাবে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।” সাথে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের “ ল্যুম্ফেনবাহিনীর সংস্কৃতি” এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের দিয়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

বালি থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আইসি-র সাসপেনশনের দাবি জানাবেন বলেও জানান। বিজেপির অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে এই অশান্তি তৈরি করা হয়েছে।

শুভেন্দুর দাবি নস্যাৎ তৃনমূলের 

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেই। তাদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া বিজেপির বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন।

রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তেজনা নতুন নয়, তবে জনগনের সেবার কাজে ব্রতী হয়ে এভাবে জনতার উদ্দেশেই সরাসরি তেড়ে যাওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রমাণ ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বিপজ্জনকও। যারা স্লোগান দিচ্ছিল, তারা সত্যিই কোনও দলের কর্মী ছিল কি না, তা যাচাই না করেই আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখানো গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, আর সেই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে সংযম ও ধৈর্য প্রত্যাশিত। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর এহেন আচরণে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনীতিবিদদের মধ্যে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন