Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: ২০২১-এর বিধানসভা থেকে ২০২৪-এর লোকসভা উত্তরবঙ্গ বারবারই গেরুয়া শিবিরের পাশে থেকেছে। সেই ধারাবাহিকতা কি এ বারও বজায় থাকবে? এই প্রশ্নই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে। রবিবার শিলিগুড়ির জনসভা থেকে সেই আত্মবিশ্বাসী সুরই শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র কণ্ঠে।
তিনি দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ এখনও বিজেপির শক্তঘাঁটি হিসেবেই অটুট রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ তোলেন, উত্তরবঙ্গকে নাকি বরাবরই বঞ্চিত করা হয়েছে।মোদীর কথায় উঠে আসে গত বছরের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, যখন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা বন্যায় ভুগছিল, তখন কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল আয়োজনেই ব্যস্ত ছিল রাজ্য সরকার। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কেন্দ্রের বার্তা উন্নয়ন ও অগ্রাধিকারের প্রশ্নে বিজেপিই নাকি আলাদা দিশা দেখাতে পারে।
সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, শিলিগুড়ির সভা যেন তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।
গত বছরের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখনও তাজা উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে। প্রবল বর্ষণ, ধস এবং তোর্ষা-সহ একাধিক নদীর জলোচ্ছ্বাসে দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। প্রাণ হারান ২৩ জনেরও বেশি মানুষ। ঠিক সেই সময়, ৫ অক্টোবর কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল ঘিরে উৎসব চলায় তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছিল বিরোধীরা।সেই পুরনো বিতর্ককেই ফের সামনে এনে রবিবার শিলিগুড়ির সভা থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্য,”যখন উত্তরবঙ্গ বন্যা আর বিপর্যয়ে জর্জরিত, তখন রাজ্য সরকার উৎসব নিয়েই ব্যস্ত ছিল।”এখানেই থামেননি তিনি। একের পর এক অভিযোগের ঝড় তুলে বলেন, তৃণমূল নাকি উত্তরবঙ্গ-বিরোধী, আদিবাসী-বিরোধী, চা-বাগান শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী, এমনকি মহিলা ও যুবসমাজের প্রতিও উদাসীন। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে না হয়েছে উন্নয়ন, না হতে দেওয়া হয়েছে কাজ। কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থও নাকি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার ইস্যুকেই সামনে রেখে পরিবর্তনের ডাক দিলেন মোদী, যা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
উন্নয়নের দিক থেকে উত্তরবঙ্গকে কখনওই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সেই সুরই আরও চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।তাঁর অভিযোগ, “উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। না নিজেরা কাজ করেছে, না অন্য কাউকে কাজ করতে দিয়েছে। কেন্দ্রের পাঠানো অর্থও সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি,”এভাবেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।এখানেই থামেননি মোদী। বাজেট বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার মাদ্রাসার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও উত্তরবঙ্গের মতো বৃহৎ অঞ্চলের উন্নয়নে যথেষ্ট নজর দেয়নি। তাঁর কথায়, “বিশেষ এক ভোটব্যাঙ্ককে খুশি রাখতেই ব্যস্ত শাসক দল, আর সেই কারণেই উন্নয়নের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।”এই বার্তার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার ইস্যুকেই সামনে এনে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন তিনি।


