31 C
Kolkata
Sunday, April 12, 2026
spot_img

দুয়ারেই ডাক্তার! রাজ্যে আসছে এক অভিনব স্বাস্থ্য প্রকল্প: জানুন বিস্তারিত

Aaj India Desk, বর্ধমান: রবিবারের নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জনমুখী ঘোষণার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজের বক্তব্যে তিনি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে জানান, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের ধাঁচে খুব শীঘ্রই গোটা রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা’। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা, ফলে দূরে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে কৃষকদের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক সহায়ক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে আলু চাষিদের জন্য বিমা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা আর্থিক সুরক্ষা পান। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বন্যা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা মেলে না, ফলে রাজ্য সরকারকেই বাড়তি চাপ সামলাতে হয়।

খাদ্য ও উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে মাছ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপি (BJP)-র বিরুদ্ধে খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উপর কোনও রাজনৈতিক চাপ থাকা উচিত নয়।

পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেও জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাজ্যে কোনও কাঁচা বাড়ি থাকবে না। সব কাঁচা বাড়িকেই ধাপে ধাপে পাকা বাড়িতে রূপান্তর করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হয়।সরকারি কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়ে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। “যুবসাথীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা আমরা করবই”-এই বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সমস্ত কিছু নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় অনেক সময় প্রশাসনিক কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হয়। সেই সুযোগে বিরোধী দলগুলি ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি মানুষকে সতর্ক করে দেন, অচেনা কাউকে কোনওভাবেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য না দিতে।

বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, তারা বিভাজনের রাজনীতি করে এবং নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করে না। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সভার অনুমতি পেতে দেরি করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার বিষয়েও তিনি সরব হন এবং এই বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সবশেষে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় প্রার্থীর পরিচয় নয়, কাজকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, “২৯৪টি আসনেই আমিই প্রার্থী”-এই স্লোগান তুলে তিনি গোটা নির্বাচনী লড়াইকেই নিজের উন্নয়নমূলক কাজের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন