Aaj India Desk,কলকাতা: ভোট যত ঘনাচ্ছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক আক্রমণ আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক। নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন(Election Assembly)এর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ কোনও দলই ফলে গোটা রাজ্য জুড়ে জোরকদমে চলছে প্রচার অভিযান। প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা থেকে রোড শো সবেতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন শীর্ষ নেতারা।শনিবার ১১ এপ্রিল বিজেপির হয়ে রাজ্যের তিনটি ভিন্ন প্রান্তে সভা করে প্রচারে ঝড় তুলেছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শুধু তিনিই নন, দলের সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছেন অমিত শাহ (Amit Shah)-ও। এদিকে প্রচারের তাপ আরও বাড়াতে রবিবার সকাল থেকে বাংলায় সভা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। সব মিলিয়ে ভোটের লড়াই এখন একেবারে চূড়ান্ত উত্তেজনার পর্যায়ে রাজনৈতিক ময়দান জমে উঠেছে পুরোদমে।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে এক বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে নারী সুরক্ষা। আর সেই ইস্যুকেই সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানাচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।রাজ্যের একাধিক সভা থেকে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi )এবং অমিত শাহ (Amit Shah) বারবার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের শাসনে বাংলার মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের বক্তব্যে ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে আর জি কর, সন্দেশখালি-সহ একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রসঙ্গ।শনিবারের সভাগুলিতেও সেই সুরেই সরব ছিলেন মোদী। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার প্রতিটি নারী ভয়মুক্ত পরিবেশে, যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায় নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারবেন। অন্যদিকে শাহ আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “এই হীরক রানিকে বিদায় জানানোর সময় এসে গেছে” ইঙ্গিত স্পষ্টতই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে।আর জি কর মেডিক্যালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন থেকে সন্দেশখালির ঘটনা সবই তুলে ধরে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।তবে পাল্টা জবাব দিতেও পিছিয়ে থাকেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বিজেপিকে নিশানা করে তুলে আনেন উন্নাও এবং দিল্লির গণধর্ষণকাণ্ডের প্রসঙ্গ, প্রশ্ন তোলেন নারী নিরাপত্তা নিয়ে আদৌ কি নৈতিক অবস্থান আছে কেন্দ্রের শাসক দলের?
সব মিলিয়ে, নারী সুরক্ষা এখন বাংলার ভোটযুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে কিন্তু সেই ইস্যুর বাস্তব সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক তরজা যেন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi )ও অমিত শাহ (Amit Shah) রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee )পাল্টা আক্রমণে সমান সুরে জবাব দিচ্ছেন।কিন্তু এই তীব্র বাকযুদ্ধের মাঝেই মূল প্রশ্নটা যেন আড়ালেই থেকে যাচ্ছে নারীরা আদৌ কতটা নিরাপদ? বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা জবাবদিহি খুব একটা সামনে আসছে না। রাজনৈতিক মঞ্চ যতই উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, নারী সুরক্ষা অনেকাংশে ভোটের ইস্যু হয়ে দাঁড়ালেও, তার কার্যকর সমাধান নিয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা এখনও অস্পষ্ট।ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই বিতর্ক কি সত্যিই সমাধানের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কেবলই পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতিতে আটকে পড়ছে?


