SPECIAL FEATURE
নির্বাচন মানেই প্রতিশ্রুতির বন্যা, আর সেই তালিকায় নগদ সহায়তা এখন বড় ফ্যাক্টর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar) ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে গেমচেঞ্জার। একুশের ভোটে এই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই’ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তুরুপের তাস’। ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধের আগে যার বরাদ্দ বাড়িয়ে আরও শক্ত করেছে শাসক শিবির।
আর পাল্টা চাপে ভারতীয় জনতা পার্টি-ও দিয়েছে তাঁদের ‘ডবল’ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের’ প্রতিশ্রুতি। যা-কে কেন্দ্র করে ‘কপি ক্যাট’ কটাক্ষ ছুঁড়ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু জানেন কি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘রামবাণ’ অস্ত্রেই রয়েছে বড়সড় বিভ্রাট। যা খতিয়ে দেখল Aaj India।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ‘বানান বিভ্রাট’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া যেমন অনলাইন ও অফলাইন—দুই পথেই সহজলভ্য করা হয়েছে, তেমনই তথ্য জানার জন্যও রয়েছে একাধিক সরকারি প্ল্যাটফর্ম। ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকে শুরু করে বিডিও বা পুরসভা অফিস—সব জায়গাতেই মিলছে ফর্ম। আবার socialsecurity.wb.gov.in পোর্টালে লগ ইন করেও করা যাচ্ছে আবেদন। সেখানে প্রকল্পের নাম ইংরেজিতে “Lakshmir Bhandar”, এবং বাংলায় লোগোতে স্পষ্টভাবে লেখা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar)—সবকিছুই যথাযথ।
কিন্তু বিভ্রাটটা চোখে পড়ে অন্য জায়গায়। কেন্দ্রীয় পরিষেবা পোর্টাল services.india.gov.in-এ একই প্রকল্পের নাম লেখা হয়েছে “লক্ষ্মীর ভান্ডার” (Lakshmir Bhandar)—যেখানে ‘ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ব্যবহার হয়েছে ‘ভান্ডার’। শুধু তাই নয়, একাধিক জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও একই বানান চোখে পড়ছে।
একই সরকারি প্রকল্প, অথচ বানানে এই অসঙ্গতি! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে। এটি কি শুধুই টাইপোগ্রাফিক ত্রুটি, নাকি নজরদারির ঘাটতি? সাধারণ মানুষের কাছে যেখানে সরকারি প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এমন ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভুল কি বিভ্রান্তি তৈরি করছে না? প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের নজরে কি এই বিভ্রাট এখনও আসেনি, নাকি গুরুত্ব পায়নি সংশোধনের প্রয়োজন?


