Aaj India Desk, দার্জিলিং : উত্তরবঙ্গের (North Bengal) মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং কার্সিয়ং বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় ভোটকে কেন্দ্র করে জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গ জুড়ে বন্যপ্রাণীর চলাচল রুখতে ও মানুষদের ভোট দিতে আসার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে।
কার্সিয়ং ও মহানন্দা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের মধ্যে পড়েছে একাধিক ভোটকেন্দ্র। এই এলাকায় হাতি, চিতা, বন্য শূকর ও সাপের উপস্থিতি নিয়মিত। ফলে ভোটের দিন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বনদফতর সূত্রে জানা গেছে, ভোটের আগের রাত থেকেই প্রতিটি বুথ ও সংলগ্ন গ্রামে নজরদারি চালানো হবে। বনদফতর, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় কমিটিগুলিকে নিয়ে বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
২৪ ঘণ্টার কুইক রেসপন্স টিম
বনদফতরের কুইক রেসপন্স টিম (QRT) ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে। বন অফিসে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হবে এবং টহলদারি বাড়ানো হবে। প্রতিটি গ্রামে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও সতর্ক রাখা হয়েছে। কোথাও বন্যপ্রাণীর গতিবিধি দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে বনদফতরকে জানাতে বলা হয়েছে। বন্যপ্রাণীকে জঙ্গলেই আটকে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকায় আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তা ব্যবহার করে প্রাণীদের জনবসতি থেকে দূরে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
কিছু সংবেদনশীল বুথে বনকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এতে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে প্রশাসনের দাবি। কার্সিয়ং বনদফতরের এজিএফও রাহুলদেব মুখার্জি বলেন, “বন্যপ্রাণী তো জঙ্গলে থাকবেই। ভোটের জন্য তাদের সরানো সম্ভব নয়। বরং চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তারা ঘন জঙ্গলের মধ্যেই থাকে।”
বিশেষ নজর রাখা হয়েছে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, সুকনা সহ বেঙ্গডুবি, ত্রিহানা, অর্ড-টেরাই, কিরণচন্দ্র, বেলগাছি, লোহাগড় ও বামনডাঙ্গি এলাকায়। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও বন্যপ্রাণী যাতে জঙ্গল ছেড়ে গ্রাম বা বুথ এলাকায় না ঢোকে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়।
ভোটের আগে প্রশাসনের এই বহুমুখী প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উত্তরবঙ্গের (North Bengal) জঙ্গলঘেরা এলাকায় শুধু আইনশৃঙ্খলাই নয়, বন্যপ্রাণীর ঝুঁকিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। নিরাপত্তা ও সতর্কতার এই সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যেই নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


