Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের আগে ফের সক্রিয় হল ইডি(ED)। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে রাজ্যজুড়ে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। শুক্রবার ভোর থেকেই মোট ১৫টি জায়গায় অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগেও এই মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে ইডি গ্রেফতার করেছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriyo Mallick)। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনায় দায়ের হওয়া একটি দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরেই এবার নতুন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই মামলায় বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা, হাওড়া, হাবড়া, বনগাঁ ও মুর্শিদাবাদ-সহ মোট ১৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চলছে। কলকাতার পোদ্দার কোর্ট এবং মিন্টো পার্ক সংলগ্ন একাধিক ঠিকানায়ও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত রয়েছেন।
পোদ্দার কোর্টে একটি ফুড প্রোডাক্ট সংস্থার অফিস রয়েছে, যেখানে একই ঠিকানায় আরও চার থেকে পাঁচটি সংস্থার কার্যক্রম চলে। সেই সব অফিসেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাংলাদেশে রেশনের গম পাচারের অভিযোগেই এই অভিযান। অন্তত ১২ জনের বেশি রফতানিকারক এই মামলায় নজরে রয়েছেন এবং তাঁদের অফিসেও তল্লাশি চলছে।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে উত্তর ২৪ পরগনার ভোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ গম পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। অভিযোগ, প্রায় ১৭৫টি ট্রাকে করে প্রায় ৫১০০ টন গম বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। যদিও শুল্ক দফতর সেই পাচার রুখে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার থেকে আটা মিলগুলিকে রেশন তৈরির জন্য যে গম সরবরাহ করা হত, তারই একটি অংশ চুরি করে বাংলাদেশে পাচার করা হত। এই চক্র আগেও সক্রিয় ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই দুর্নীতির অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এবার একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay) একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপি (BJP) কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। প্রচারসভা থেকে তিনি বলেন, “বাংলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিজেপির চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয় না এজেন্সি। বাংলাকেই টার্গেট করা হচ্ছে। সাহস থাকলে গণতান্ত্রিক লড়াই হোক।”
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা পাল্টা দাবি করেছেন, “বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রস্তুত। আমাদের কোনও এজেন্সির প্রয়োজন নেই। মানুষ নিজেই পরিবর্তন চাইছে। আমরা মানুষের রায়ের উপরই আস্থা রাখি। তৃণমূল (TMC) বুঝে গিয়েছে, জনসমর্থন তারা হারিয়েছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, রেশন দুর্নীতি মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও তাঁকেই পুনরায় প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাবড়া কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। সম্প্রতি এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বালু’ প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল।


