Aaj India Desk, মালদহ: মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। এই তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সেই নির্দেশ মেনেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এনআইএ, এবং দায়িত্ব হাতে নিয়েই মোট ১২টি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই সেই ১২টি এফআইআর-এর কপি এনআইএ আদালতে জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারক সুকুমার রায় (Sukumar Roy)-র এজলাসে এই নথিপত্র পেশ করা হয়।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে খুনের চেষ্টা, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং সরকারি কর্মীদের উপর হামলার মতো গুরুতর অপরাধ। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত নথি এবং অভিযুক্তদের এনআইএ (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে আদালতে।
মোথাবাড়িকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর আগেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ২৫ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয় এনআইএ। সেই রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ান ছাড়াও মোথাবাড়ি এলাকার ২২ জন বিএলও (BLO)-র জবানবন্দীও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই রিপোর্টে ঘটনার দিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র এবং প্রশাসনের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা বিশদে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সিআইডি গ্রেফতার করেছিল মোফাক্কেরুল ইসলামকে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে এনআইএ। যদিও অভিযুক্তের আইনজীবীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত এনআইএ-র তরফে হেফাজতে নেওয়ার জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক ‘পুট আপ’ তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।


