Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজনীতিতে লড়াই চললেও মানবিকতার দিক থেকে যে তিনি সবসময় এগিয়ে, তা আবারও প্রমাণ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর (Mamata Thakur)। মেয়ের নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথেই মাঝরাস্তায় ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় আহত যুবককে বাঁচাতে নিজেই উদ্যোগী হলেন তিনি। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-বাগদা সড়কের আরামডাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা সামনে আসে।
সেদিন বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল (TMC) প্রার্থী তথা নিজের মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর (Madhuparna Thakur)-এর সমর্থনে প্রচারে যোগ দিতে ঠাকুরনগর থেকে বাগদার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মমতা ঠাকুর। পথে আরামডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছে তিনি দেখতে পান একটি বাইক দুর্ঘটনায় এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে কাতরাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ করে একটি কুকুর রাস্তার মাঝে চলে আসায় বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজন ভিড় করলেও আহতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনও ব্যবস্থা হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতি দেখে আর দেরি না করে নিজের কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন সাংসদ। দলীয় কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সহায়তায় তিনি নিজেই ওই যুবককে রাস্তা থেকে তুলে নিজের গাড়িতে তোলেন এবং তড়িঘড়ি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।
এই প্রসঙ্গে মমতা ঠাকুর জানান, “আমি বাগদায় প্রচারে যাচ্ছিলাম। আরামডাঙ্গার কাছে এসে দেখি একজন যুবক গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় পড়ে রয়েছেন, অথচ তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তাই আমরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিই। আমার কাছে নির্বাচনী প্রচারের চেয়ে একজন মানুষের প্রাণ অনেক বেশি মূল্যবান।”
আহত যুবকের নাম অমিত কুমার সাহা, তিনি বাগদার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কাজের সূত্রে তিনি বাগদা থেকে গড়াপোতার দিকে যাচ্ছিলেন। আহতের কাকা পরিতোষ কুমার সাহা সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সাংসদ ঠিক সময়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন। নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণেই আমার ভাইপো এখন অনেকটাই সুস্থ। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”


