Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: হলদিয়ায় সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র উপস্থিতিতেই জোরালো বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও জয়ের লক্ষ্যে তিনি আত্মবিশ্বাসী সুরে জানালেন -মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে দেখাবেনই। তাঁর কথায়, এই লড়াইয়ে জিততে দরকার শুধু প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনেই পদ্ম ফোটার দাবিও করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “নন্দীগ্রামে জয় আমার নিশ্চিত। ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে আবার হারাতে হবে। আপনার আশীর্বাদ চাই। আপনি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, ভবানীপুরেও তা পূরণ করব -আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারী। এবারে সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভবানীপুর। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এই কেন্দ্র থেকেও লড়াইয়ে নেমে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আগের জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর ডাক দিচ্ছেন। ভবানীপুরের এক সভায় তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রামে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত হতে হয়েছিল, আসন্ন ভোটে ভবানীপুরেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভবানীপুরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে, যা বিজেপির পক্ষে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। এই প্রেক্ষিতে শুভেন্দু মূলত অ-বাঙালি ভোটব্যাঙ্ক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সমস্যা তুলে ধরে প্রচার জোরদার করছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে আক্রমণ করলেও শুভেন্দুর পাল্টা দাবি -ভবানীপুরের মানুষ এবার আবেগ নয়, উন্নয়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে ভবানীপুর তাঁর নিজের ঘাঁটি হলেও, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে এটি মর্যাদার লড়াই। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রের উত্তাপ রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “কথা বলতে তো কোনও খরচ হয় না। আগেরবারও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বিজেপি ২০০ পার করবে।”


