Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আবহে ইতিমধ্যে দেখা গিয়েছে বহু দুর্ঘটনা। তবে একই কংগ্রেস প্রার্থীকে (Congress Candidate) ঘিরে বারবার বাধা ও হামলার ঘটনা সামনে আসায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা ?
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে বহরমপুরে ফেরার পথে জীবন্তী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক আচমকা কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate) অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কনভয়ের একটি গাড়িকে ধাক্কা মারে। ওই গাড়িতে সিআরপিএফ নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। অধীর চৌধুরী ঘটনাস্থলের ঠিক পিছনের গাড়িতেই ছিলেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধীর চৌধুরী অক্ষত থাকলেও কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান কেতন জয়সওয়াল সহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত চালককে আটক করা হয়। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে নির্বাচনমুখী বহরমপুরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু হলেও বিরোধী শিবিরের একাংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে সরব। ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ, থানার দূরত্ব কম হওয়া সত্ত্বেও খবর দেওয়ার পর প্রায় আধঘণ্টা দেরিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কেতন জয়সওয়াল বলেন, নির্বাচনী কর্মসূচির সব তথ্য আগেই প্রশাসনকে জানানো হয়। তবুও এই ধরনের দেরি পুলিশের গাফিলতিকেই স্পষ্ট করে বলে মত জয়সওয়ালের।
রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ কমিশনের
এআইসিসি সদস্য নিলয় প্রামাণিকও ঘটনাটিকে “উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের কথা জানিয়েছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন জেলা প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কমিশন কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, তা এখন দেখার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও একাধিকবার কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate) অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রচারে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে, যার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিল কংগ্রেস শিবির। ফলে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিষয়েও ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।


