নয়াদিল্লি: পথকুকুর (Stray Dogs) সংক্রান্ত মামলায় দায়ের হওয়া একাধিক অন্তর্বর্তী আবেদন নিয়ে মঙ্গলবার শুনানি শুরু করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি অঞ্জারিয়া–র তিন সদস্যের বেঞ্চ কুকুরদের কারণে হাইওয়ে ও রাস্তায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
আদালত জানায়, “কোনও প্রাণী কখন কামড়াবে বা কখন কামড়াবে না—তা তার মনের কথা পড়ে বোঝা যায় না। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই ভালো।” বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, রাস্তা কুকুরমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিচারপতিরা বলেন, “কুকুর কামড় নাও দিতে পারে, কিন্তু তারা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রাস্তা, স্কুল বা প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় কুকুরের কী প্রয়োজন?”
এই মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, যদি কোনও কুকুর (Stray Dogs) আক্রমণাত্মক হয় বা কাউকে কামড়ানোর আশঙ্কা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে ফোন করে সেই কুকুরকে ধরে বন্ধ্যাকরণ (স্টেরিলাইজেশন) করে আবার এলাকায় ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।
এতে বেঞ্চ কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করে, “এখন শুধু এটুকুই বাকি আছে যে, কুকুরদের কাউন্সেলিং দেওয়া হবে—যাতে তারা ছেড়ে দেওয়ার পর আর কামড় না দেয়।” আদালত আরও জানায়, সমস্যা শুধু কামড়ানো নয়। “কুকুর দৌড়াতে গিয়ে চলন্ত যানবাহনের সামনে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তায় গাড়ি চলে—সেখানে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক,” মন্তব্য বিচারপতিদের।
এর জবাবে সিবাল বলেন, “কুকুররা রাস্তায় থাকে না, তারা চত্বর বা কম্পাউন্ডে থাকে।” তবে বেঞ্চ তা মানতে নারাজ হয়ে জানায়, “আপনার তথ্য পুরনো। প্রতিরোধই সর্বোত্তম পথ। রাস্তা কুকুরমুক্ত করা প্রয়োজন। তারা কামড় না দিলেও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”


