কলকাতা: বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। আর পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে ৪০ জন ‘স্টার ক্যাম্পেইনারের’ নামের তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি (BJP)। যে তালিকার শীর্ষেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম। তারপর নীতিন নবীন, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, নীতিন গডকড়ির মত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নাম। তালিকার প্রথম দশে মিঠুন চক্রবর্তী এবং লিয়েন্ডার পেজের মত প্রবাসী বাঙালিদের নাম থাকলেও রাজ্য নেতৃত্বরা মূলত স্থান পেয়েছেন তালিকার শেষ দশে। এখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন। বাংলা জয়ের লক্ষ্যে কি রাজ্য নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে পারছে না পদ্ম শিবির (BJP)?
একুশের ভোটে ৭৭ আসনেই আটকে গিয়েছিল বিজেপির (BJP) গাড়ি। তাই ছাব্বিশের ভোটের আগে তৃণমূলের মতই বাঙালি অস্মিতার পালে হাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। বঙ্গ সফরে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের মুখে শোনা গিয়েছে বাঙালি মনিষী, দুর্গাপুজোর কথা। এমনকি বিজেপি (BJP) ‘মাছ-মাংস খাওয়ার বিরোধী’, এই দাবী খণ্ডাতে কখনও মাছ হাতে প্রচার করেছেন বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট-প্রাপ্ত বিজেপি প্রার্থী। তো কখনও আবার ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ আবেগে হাওয়া দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

কিন্তু এত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কি বাঙালির মনে জায়গা করতে পারছে বিজেপি (BJP)? বারবার প্রশ্ন ওঠে, উত্তরভারতীয় দল বিজেপি বাংলার মাটিতে কীভাবে জিতবে যদি বাঙালিয়ানাই না থাকে? সেই প্রশ্নকেই আরও জোড়াল করে দিয়েছে তাদের ‘প্রচারক তালিকা’। যেখানে যোগী আদিত্যনাথ, রেখা গুপ্ত, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, বিপ্লব কুমার দেবের মত ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নাম শমীক ভট্টাচার্য, দীলিপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীদের আগে। এমনকি হেমা, মালিনী, কঙ্গনা রানাওত, অনুরাগ ঠাকুর-দেরকেও তালিকায় আগে রেখেছে পদ্ম শিবির (BJP)।
সম্প্রতি বঙ্গভোটের প্রচারে এসেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। মঙ্গলবার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে বাংলায় প্রচারে নামতে চলেছেন কঙ্গনা রানাওত। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও বারবার কটাক্ষ শোনা যায়, রাজ্য বিজেপির (BJP) হাতে কোনও ক্ষমতা নেই। অর্ডার আসে দিল্লি থেকে। প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচার নির্দিষ্ট করে দেন দিল্লিতে বসে থাকা নেতা, মন্ত্রীরা।
একুশের হারের পর এহেন তালিকায় বাংলার মানুষ কি ভরসা করতে পারবেন? বাইরের বড় নেতা, মন্ত্রীদের নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে কতটা ভরসা করতে পারবেন বাংলার মানুষ? উল্টে শাসকদলের কাছে ‘বাঙ্গালিয়ানার’ বোনাস পয়েন্ট চলে যাবে না তো? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।


