নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ ‘কলকাতা ওড়ানোর’ হুমকি দেওয়ার পরদিনই রাজ্যে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। অথচ বাংলায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সুর চড়ানো প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই হুমকির কোনও উল্লেখ পাওয়া গেল না! এই ইস্যুকে সামনে রেখে গতকাল, অর্থাৎ সোমবার নদিয়ায় নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি মালদহের জনসভা থেকে “পাকিস্তানে (Pakistan), বাংলাদেশে বসে লোকেরা দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ওড়ানোর হুমকি দেয়! আর প্রধানমন্ত্রী এখানে বসে আঙুল চোষেন! এই আপনার ৫৬ ইঞ্চি?” বলে তোপ দেগেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অবশেষে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের ‘কলকাতা টার্গেট’ হুমকির জবাব দিল কেন্দ্র।
মঙ্গলবার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) কলকাতার ওপর হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সতর্ক করেন, পাকিস্তান যদি বাংলাকে ‘টার্গেট’ করার চেষ্টা করে, তবে ওদের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এদিন ব্যারাকপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে, পাকিস্তান যখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, তখন তারা এর পরিণাম ভোগ করেছিল। এবার যদি তারা বাংলার দিকে কুনজর দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কে জানে—পাকিস্তান কত ভাগে বিভক্ত হবে।”
কি বলেছিলেন খাজা আসিফ?
শনিবার শিয়ালকোটে একটি সাংবাদিক বৈঠকে ভারতকে খোলা হুমকি দিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “ভারত যদি এবার কোনো ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তবে ইনশাআল্লাহ, আমরা কলকাতা ওড়াবো”! শুধু কলকাতা নয়, হুমকির সুর সপ্তমে চড়িয়ে আসিফ বলেন, “ওরা যদি আবারও চেষ্টা চালায়, তবে গত বছরের চেয়েও ভয়াবহ অপমানের মুখোমুখি হবে। এবার সংঘাত কেবল ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ওদের ঘরে ঢুকে হামলা করব”।


