নয়াদিল্লি: “Open fu***ng Strait of Hormuz, you ba***rds”! নিজেকে যুদ্ধ থামানোর ‘এস্কপার্ট’, নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবীদার বলে মনে করা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মুখে এই ভাষা! বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণকারীরা বলছেন, শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump)!
ইরানকে (Iran) দুর্বল মনে করা ট্রাম্প যতই যুদ্ধ নিয়ে আস্ফালন করুন না কেন, বাস্তবে হরমুজ বন্ধ করে আমেরিকার যে ভালোমত শিরঃপীড়া শুরু করেছে ইরান, তা বলাই বাহুল্য। শুধু সমগ্র বিশ্বে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্যতম জলপথ আটকেই নয়, আকাশেও আমেরিকা-ইজরায়েলকে ভালমত জবাব দিচ্ছে ইরান, বলে তথ্য সামনে উঠে এসেছে।
ক্ষতি হয়েছে আমেরিকারও
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানকে সবরকমভাবে হুমকি দিয়ে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এদিনও ফের হরমুজ খোলার ৪৮ ঘন্টার ‘আল্টিমেটাম’ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু যতই এই যুদ্ধ নিয়ে তাফালিন করুক না কেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকাও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের (America) অন্তত সাতটি মনুষ্যবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আরও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার একদিনেই দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। আলাদা দুটি ঘটনায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি F-15 এবং একটি A-10 যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। এর ফলে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি মার্কিন যুদ্ধবিমান হারানোর তথ্য সামনে এসেছে।
এর আগে সংঘাতের শুরুর দিকেই একটি বড় ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনা ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ২ মার্চ কুয়েতের আকাশসীমায় ভুলবশত কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে তিনটি F-15 যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। পরে অবশ্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দাবী করে, ওই বিমানগুলির পাইলটরা সুস্থ হয়ে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।
নজরদারি ব্যবস্থারও ক্ষতি
জানা গিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আমেরিকার শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি বিমানও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২৭ মার্চ ইরানের হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে মাটিতে থাকা একটি E-3 Sentry নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে।
একই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হন। পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়, ইরানের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা।
OSINT (ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স) অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির হিসাব:
- মোট ৪টি F-15E ‘Strike Eagle’ ক্ষতিগ্রস্ত
- এর মধ্যে ৩টি কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ
- ১টি ইরানের হামলায়
- ১টি E-3G ‘Sentry’ নজরদারি বিমান ধ্বংস
- ১টি A-10C ‘Thunderbolt II’ যুদ্ধবিমান ক্ষতি
- ১টি ট্যাঙ্কার বিমান ইরাকে ভূপাতিত, ৬ জন ক্রু নিহত
অন্য ক্ষয়ক্ষতি:
- একাধিক হেলিকপ্টার ও ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত
- কিছু বিমান পুরোপুরি বাতিল (write-off) হতে পারে, তবে নিশ্চিত নয়
মোট আর্থিক ক্ষতির অনুমান (OSINT তথ্য অনুযায়ী):
- মোট ক্ষতি প্রায় ১৫,৪০০ কোটি টাকা
- ৪টি F-15E: প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা
- ১টি A-10: প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা
- ২টি KC-135 ট্যাঙ্কার: ৭৪০ কোটির বেশি
- ১৭টি MQ-9 Reaper ড্রোন: প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকা
- ১টি Boeing E-3 Sentry: প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা
- এছাড়া আরও ৯টি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট


