Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : উত্তর ২৪ পরগনার দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র বারাসাত ও মধ্যমগ্রামে ফের প্রকাশ্যে এলো বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) মধ্যে অসন্তোষ। আসন সমঝোতা নিয়ে এই লাগাতার দ্বন্দ্বে কি আখেরে শাসক দলের সুবিধা করে দিচ্ছে বাম জোট ?
বারাসাতে জোটের অস্বস্তি
বারাসাত কেন্দ্রে বামফ্রন্টের হয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হয়েছেন হেমন্ত দাস। তবে সিপিএমের অনেক নতুন প্রজন্মের কর্মী ও যুবক এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না। ফলে প্রচারে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
সিপিএম পরিবার থেকে আসা যুবক অভিক বসু ঠাকুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনেক সিপিএমের নতুন প্রজন্মের কর্মী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রচারে আপত্তি নেই। অভিকের বাবা পুলক বসু ঠাকুরের বাবা অভিষেক বসু ঠাকুর আগে সিপিএমের বারাসাত নাপাড়া নং ৩ শাখা কমিটির সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেছেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে ফরওয়ার্ড ব্লকের এমএলএ ছিলেন এই কেন্দ্রে। সিপিএম কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, কিন্তু চাকরি-সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার আবার তাদের ছেলেরা ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর জন্য পরিশ্রম করছে।” অন্যদিকে হেমন্ত দাস বলেছেন, “নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু কেন্দ্রে সব স্তরের বাম কর্মীরা আমার সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ।”
মধ্যমগ্রামে একই ছবি
মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রেও জোটের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বুধবার ফরওয়ার্ড ব্লক নিতাই পালকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ISF প্রিয়াঙ্কা বর্মনকে প্রার্থী করেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে আইএসএফ একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করায় ফরওয়ার্ড ব্লক অসন্তুষ্ট। ফরওয়ার্ড ব্লক জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “আইএসএফ আসন সমঝোতা মানেনি। একতরফাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। বামফ্রন্টের শরিক হিসেবে আমরা অপমানিত বোধ করছি।”
শাসক দলের সুবিধা ?
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্ট ২৫২টি আসনে লড়বে বলে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সিপিএম ১৯৫টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টি, সিপিআই ও আরএসপি ১৬টি করে আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। আইএসএফ ৩০-৩৩টি এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ৮টি আসনে লড়বে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলায় বামফ্রন্ট-আইএসএফের মধ্যে স্থানীয় স্তরে অসন্তোষ থাকলেও রাজ্য নেতৃত্ব সমঝোতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে শাসক দলেরই সুবিধা হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি আগে থেকেই বেশ মজবুত। বারাসাত, মধ্যমগ্রাম, হাবড়া, ব্যারাকপুরসহ বেশিরভাগ আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। ফলে বিরোধীদের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তাদের প্রচারে বাড়তি গতি যোগ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


