28.1 C
Kolkata
Wednesday, April 1, 2026
spot_img

‘আমরাই এপ্রিল ফুল হয়ে গেলাম’ -প্রাথমিকে ইন্টারভিউ স্থগিত, হতাশ প্রার্থীরা

Aaj India Desk, কলকাতা: পয়লা এপ্রিল – যে দিনটিকে সাধারণত মজা ও ‘এপ্রিল ফুল’-এর সঙ্গে জড়িয়ে দেখা হয়, সেই দিনই যেন বাস্তবের কঠিন ধাক্কা খেলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষক (WB Primary TET) নিয়োগের বহু প্রতীক্ষিত ইন্টারভিউ (Interview) প্রক্রিয়া হঠাৎ করেই স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে আবারও অনিশ্চয়তার শিকার হল প্রায় ১৩ হাজার ৪২১ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ।

আগে জানানো হয়েছিল, আগামী ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এই ইন্টারভিউ পর্ব এবং তা চলবে মে মাস পর্যন্ত। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন প্রার্থীরা। অনেকেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই সুযোগকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু আচমকাই সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে জানানো হয় – আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে পুরো সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া।

পর্ষদের তরফে এই সিদ্ধান্তের পিছনে ‘অনিবার্য কারণ’-এর কথা বলা হলেও, এখনও পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত, কবে আবার শুরু হবে প্রক্রিয়া – এই সমস্ত প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। নির্বাচনের পর ফের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। তবে তা কবে, কীভাবে – তা নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকছে না।

এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষক পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল আগেই বলেছিলেন বছরে অন্তত দু’বার নিয়োগ হবে। টেট পাশ কেউ বসে থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগের নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হল। তারপর ইন্টারভিউয়ের সময়সূচিও দেওয়া হল। সব কিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছে ভেবেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে এই স্থগিতাদেশ -এটা যেন একেবারে এপ্রিল ফুল বানানোর মতোই।”

এই ঘটনার জেরে নতুন করে সামনে উঠে আসছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন। বহু প্রার্থীই বলছেন, বারবার এভাবে প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ায় তাদের মানসিক ও আর্থিক চাপ বাড়ছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শেষবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। কিন্তু এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে যারা টেট পাশ করেছেন এবং ডিএলএড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তারা এখনও নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে নতুন ও পুরনো – দুই দিকের প্রার্থীরাই এখন একইসঙ্গে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন