Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বামফ্রন্ট (Left Front) পুরনো সংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করে প্রচার শুরু করতেই, সেই ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা কৌশল হিসেবে প্রাক্তন সিপিএম নেতাকেই মুখোমুখি আনলো তৃনমূল কংগ্রেস।
‘পুরনো ফর্মুলা’ ফেরানোর চেষ্টা
বামফ্রন্টের (Left Front) ভিতরে এখনও Indian Secular Front-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও সিপিএম সংগঠনকে চাঙা করতে পুরনো কৌশল, বাড়ি বাড়ি প্রচার, পাড়াভিত্তিক বৈঠক এবং পথসভা আবার সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে উত্তরপাড়া, যাদবপুর, পানিহাটি, জয়নগর, কাকদ্বীপের মতো ঐতিহ্যগতভাবে বাম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় এই প্রচার জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু জায়গায় জনসমাগমও বাড়ছে, যা বামফ্রন্টের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূলের পাল্টা চাল: ‘ইনসাইডার’ কার্ড
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি সাংগঠনিক শক্তির মোকাবিলায় না গিয়ে কৌশলগতভাবে ‘ইনসাইডার’ ব্যবহার করছে। সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন প্রতীক উর রহমান। ইতিমধ্যেই প্রতীক উর যাদবপুর, উত্তরপাড়া, জয়নগর, কাকদ্বীপ, পানিহাটি সহ একাধিক কেন্দ্রে প্রচার শুরু করেছেন। সম্প্রতি বারুইপুর ও সোনারপুরে রোড শো করেছেন তিনি। বুধবার উত্তরপাড়ায় দু’টি সভায় অংশ নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে ভোটের আবেদন জানান। আগামী কয়েক দিনে আমডাঙা, পানিহাটি, উত্তর ব্যারাকপুর, জয়নগর ও কাকদ্বীপে প্রতীক উরের একাধিক প্রচার কর্মসূচি রয়েছে। একইসঙ্গে বামফ্রন্টও সোনারপুর ও বারুইপুরে প্রচার বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি সিপিএমের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গোষ্ঠী রাজনীতি এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি নিশানা ছিল সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দলের শীর্ষ স্তর।
টিকিট না পেলেও প্রচারে গুরুত্ব
তবে তৃনমূল প্রতীক উর রহমানকে প্রার্থী করেনি, যা প্রথমে অনেককে অবাক করেছিল। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী না করে আরও বৃহত্তর ভূমিকায় ব্যবহার করছে। একজন প্রার্থী একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকেন, কিন্তু প্রতীককে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ঘুরিয়ে প্রচারে নামিয়ে তৃণমূল তাকে ‘মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে। এতে একইসঙ্গে বিভিন্ন বাম ঘাঁটিতে বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লড়াই শুধু ভোটের অঙ্কের নয়, বরং প্রভাব ও বয়ান তৈরির লড়াই। বামফ্রন্ট (Left Front) চাইছে তাদের ঐতিহ্যগত সংগঠন পুনরুদ্ধার করতে, অন্যদিকে তৃণমূল চাইছে সেই সংগঠনের ভিতেই বিভাজন তৈরি করতে। প্রতীক উর রহমানকে সামনে এনে তৃণমূল যে কৌশল নিয়েছে, তা স্বল্পমেয়াদে প্রচারে গতি আনতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে বামফ্রন্ট কতটা নিজেদের সংগঠন ধরে রাখতে পারে তার উপর।


