Aaj lndia Desk, পূর্ব বর্ধমান : ডিজিটাল (Digital) প্রচারের ঝড় যতই জোরালো হোক, ভোটের মাটিতে এখনও রঙিন রয়ে গেছে দেওয়াল। সোশাল মিডিয়ার মিম, ভিডিও আর পোস্টের ভিড়ের মাঝেও পথচারীর নজর কাড়ে আঁকা কার্টুন, ছড়া আর ব্যঙ্গচিত্রে ভরা রাজনৈতিক বার্তা যেন পুরনো দিনের প্রচার আজও হার মানেনি নতুন যুগকে।
২০২৬-এর বিধানসভা ভোট (West Bengal election assembly 2026)-এর দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রার্থী বাছাইয়ে জোর কদমে নেমে পড়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি। শুরুটা করে বিজেপি, তার পর একে একে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) , বাম শিবির ও অন্যান্য দল নিজেদের তালিকা প্রকাশ করে। সবশেষে কংগ্রেসও প্রার্থী ঘোষণা সম্পন্ন করে। তবে প্রথম দফায় কাটোয়া কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও, সম্প্রতি সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে বিজেপি।
তবে প্রার্থী ঘোষণার তৎপরতা আর মাটির প্রচারের গতি দুটোর মধ্যে ফারাক স্পষ্ট। কাটোয়া শহর থেকে আশপাশের গ্রামাঞ্চলে ঘুরলেই চোখে পড়ে, দেওয়াল লিখনে বেশ দাপট দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে তুলে ধরে কার্টুন, ছড়া আর স্লোগানে রঙিন হয়ে উঠেছে বহু দেওয়াল। কোথাও আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে বিরোধীদের নিশানাও করা হয়েছে।বাম শিবিরের তরফে কিছু এলাকায় দেওয়াল লিখন নজরে এলেও তা সংখ্যায় কম। বিজেপি ও কংগ্রেসের উপস্থিতি আরও সীমিত স্থানীয়দের দাবি, তাদের প্রচার মূলত পোস্টারেই আটকে রয়েছে।
এলাকার যুবকদের কথায়, “মোবাইলে সোশাল মিডিয়ার প্রচার তো দেখি, কিন্তু রাস্তায় বেরোলেই চোখে পড়ে দেওয়াল লিখন। সেটাই যেন ভোটের আসল আবহ তৈরি করে। দেওয়াল না থাকলে ভোটের অনুভূতিটাই অসম্পূর্ণ লাগে।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্রচারের বিস্তার সত্ত্বেও গ্রাম ও শহরতলির ভোটারদের কাছে দেওয়াল লিখনের গুরুত্ব এখনও অটুট। কারণ, এটি সরাসরি চোখে পড়ে এবং সহজে বার্তা পৌঁছে দেয়।


