Aaj lndia Desk, পূর্ব বর্ধমান: সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা আর সেই আতঙ্কেই চরম সিদ্ধান্ত! বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক, এমনই দাবি পরিবারের। মৃতের নাম ক্ষ্যাপা হাজরা (৩৫)। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের কাঁকসা ব্লকের মলানদিঘি গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর পাড়ার বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছিল।পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের অনেকের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত হলেও, ক্ষ্যাপা হাজরার নাম সেখানে না থাকায় তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েন।
ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে গ্রামের একটি মাঠ থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।তড়িঘড়ি তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
ক্ষ্যাপা হাজরার মৃত্যুকে ঘিরে শোকস্তব্ধ পরিবার। তাঁর স্ত্রী বৃন্দা হাজরা জানান, ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন ক্ষ্যাপা। বারবার বলতেন, তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবেন।
বৃন্দার কথায়, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করছিলেন না। মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। শনিবার দুপুরে কিছু না খেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি।কেন তাঁর নাম তালিকায় উঠল না, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা বলেই জানিয়েছেন বৃন্দা হাজরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার দাবি করেন,এই নিয়ে দুর্গাপুরে স্যার (SIR)-সংক্রান্ত ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানুষকে “অনুপ্রবেশকারী” তকমা দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু এই রাজ্যেই নয়, বিভিন্ন রাজ্যেই SIR প্রক্রিয়া চলছে, অথচ অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না। তিনি পাল্টা অভিযোগ তোলেন, তৃণমূলই মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই তার কাজ করছে।


