Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফা ভোট ২৩ এপ্রিল। তার আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৭৭ লক্ষ নাম বাদ পড়া এবং ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) কাজ শুরু না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বহু ভোটার। নির্বাচন কমিশন আপিলের সুযোগের কথা জানালেও এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফলে এখনও ধোঁয়াশায় সাধারণ মানুষ।
সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। খসড়া তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়ে। পরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৭ লক্ষে পৌঁছেছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে বাদ পড়া ভোটাররা আপিল করতে পারবেন। তবে সমস্যা হচ্ছে, এই ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যক্রম কোথায় শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রের খবর, নিউটাউনের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি, হিডকো অফিস এবং সল্টলেক স্টেডিয়াম পরিদর্শন করা হলেও কোনও জায়গাকেই ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) উপযুক্ত মনে হয়নি। জোকায় একটি কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর পছন্দ হলেও, সেখানেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ভোটারদের ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হবে। ২৩ মার্চ প্রকাশিত তালিকার ক্ষেত্রে শেষ দিন ৬ এপ্রিল, এবং পরবর্তী তালিকার জন্য সময়সীমা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অফলাইনে জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ECI Net অ্যাপের মাধ্যমে আপিল করা সম্ভব।
বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হচ্ছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। ট্রাইব্যুনালের (Tribunal) স্থান নির্ধারণ এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় কার্যত পুরো ব্যবস্থাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ধরেও নেওয়া যায়, যদি মার্চ মাসের মধ্যেই জায়গা চূড়ান্ত হয়, তবুও অবকাঠামো তৈরি, কর্মী নিয়োগ এবং প্রক্রিয়াগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে অন্তত ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। ফলে ট্রাইব্যুনালের কার্যকরী কাজ শুরু হতে আরও বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। এরপর শুরু হবে আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের ধাপ, যা স্বভাবতই সময়সাপেক্ষ। প্রতিটি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখা, তথ্য যাচাই, প্রয়োজন হলে শুনানি, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা দরকার। পাশাপাশি, যাচাইয়ের পর সংশোধিত তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করাও একটি পৃথক ধাপ, যা আরও সময় নেবে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে সময়সীমা নিয়ে। প্রথম দফার ভোটের আগে হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় রয়েছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে অনেক বৈধ ভোটারই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না। ফলস্বরূপ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


