Aaj India Desk,পশ্চিম মেদিনীপুর : আজ রামনবমী (Ram Navami)। রাজ্য জুড়ে বিজেপির মিছিল, শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক বার্তা সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ। ঠিক সেই সময়েই ঘটল এক অন্য ছবি। ঘাটালে “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান” (Ghatal Master Plan) -এর কাজ দেখতে গিয়ে হঠাৎই রামমন্দিরে পা রাখলেন অভিনেতা দেব (Dev)। কপালে গেরুয়া সিঁদুর, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় আর তাঁর মুখে ধ্বনিত হল “জয় শ্রী রাম”(Joy shree Ram )।অভিনেতা হিসেবে নয়, তৃণমূল সাংসদ হিসেবেও তাঁর এই উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ, দেব বরাবরই নিজের ছন্দে চলেন, দলীয় লাইনের বাইরেও অনেক সময় নিজের মত প্রকাশ করেন।তবে প্রশ্নটা এখানেই এটা কি নিছক ব্যক্তিগত বিশ্বাস?নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও বার্তা? রাজনৈতিক মহলে এখন সেই নিয়েই জোর জল্পনা।
এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দেখার পরে দেব মঞ্চে উঠে বলেন, “জয় শ্রী রাম” ( Joy shree Ram)। ঘাটাল এমন একটা জায়গা, যেখানে মানুষের মনে ভালবাসা রয়েছে। এখানকার মানুষের মনে ভালবাসা আছে, আত্মীয়তা আছে, ভরসা আছে। ঘাটালের সাংসদ হিসেবে আমার ভীষণ গর্ব হয়। এখানে সমস্ত উৎসবকে উদযাপন করা হয়, সেটা একটা গর্বের ব্যাপার। সাংসদ হিসেবে আপনাদের সামনে এসে আমি গর্বিত। এটুকুই বলতে চাই, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, পাশে আছি, সাথে আছি। আপনাদের দাবি, আপনাদের চাহিদা সমস্ত আমি দিদির কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই হঠাৎ এই রূপে কেন দেখা গেল দেবকে?এটা কি শুধুই ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ?নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে কোনও বড় রাজনৈতিক বার্তা? বারবার “জয় শ্রী রাম” বলার তাৎপর্য কী? ভোটের আগে কি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন তিনি?
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে মঞ্চে উঠে ভিন্ন সুরে ধরা দিলেন দেব।”জয় শ্রী রাম”ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি তুলে ধরলেন ঘাটালের মানুষের ঐক্য ও ভালোবাসার কথা। তাঁর কথায়, এই মাটিতে শুধু উৎসব নয়, মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক, আস্থা আর একে অপরের প্রতি টান যা তাঁকে সাংসদ হিসেবে গর্বিত করে।
ঘাটালের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর কাছে সম্মানের, এমনটাই জানিয়ে দেব স্পষ্ট করেন মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই তাঁর মূল বার্তা। তিনি আশ্বাস দেন, এলাকার মানুষের প্রতিটি দাবি ও প্রয়োজন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন ‘দিদি’র কাছে। তাঁর বক্তব্যে ছিল একদিকে আবেগ, অন্যদিকে দায়িত্ববোধের স্পষ্ট ছাপ।
অন্যদিকে, টলিউডের টেকনিশিয়ানদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও সরব হন দেব। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা বাধা ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবু তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয় শুধুমাত্র সহকর্মীদের স্বার্থে এবং ভালোবাসা থেকেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।দেবের কথায়, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা সবাই চাই ইন্ডাস্ট্রি আরও বড় হোক, সবাই নিশ্চিন্তে কাজ করুক।” নির্বাচন মিটলে আবারও এই পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ধর্মীয় আবহ, জনসংযোগ আর ইন্ডাস্ট্রির বার্তা সব মিলিয়ে ঘাটালে দেবের এই উপস্থিতি এখন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


