Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : গত ২৬ মার্চ বাসন্তী (Basanti) বাজার এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও একাধিক পুলিশ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে অন্তত আটজন পুলিশ আহত হন। এই প্রেক্ষিতেই এবার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের অভিযোগ, আগে থেকেই ওই এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির তথ্য থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) এলাকায় উপস্থিত থাকলেও তাদের সহায়তা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে গুরুতর গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।
কী পদক্ষেপ নিল কমিশন ?
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাসন্তী (Basanti) থানার আইসি অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেয় কমিশন। শুক্রবার নবান্নে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানায়, অভিজিৎ পালের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে শুক্রবার রাত ৯টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর প্রবীর ঘোষকে বাসন্তী থানার নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল এলাকায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন।
ভোটের আগে উত্তপ্ত বাসন্তী
কয়েকদিন আগে বাসন্তীতে (Basanti) বিজেপির প্রচার ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের অভিযোগ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ভারত সেবাশ্রম সংঘে আশ্রয় নেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, “বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
তবে বাসন্তীর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে এই দ্রুত রদবদল থেকে স্পষ্ট, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করতে রাজি নয় কমিশন।


