Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas) একটি বড় ঘোষণা করে জানিয়েছে, দেশে এলপিজি (LPG)-এর কোনো রকম সংকট নেই(No Shortage)। বরং অভ্যন্তরীণ রিফাইনারি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে — প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে এখন দেশ আর সম্পূর্ণভাবে আমদানির উপর নির্ভরশীল নয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টিএমটি(TMT) এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে, যা মোট চাহিদার (প্রায় ৮০ টিএমটি) ৬০ শতাংশেরও বেশি। ফলে আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টিএমটি-তে নেমে এসেছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বৃহস্পতিবারই এক বিবৃতিতে জানায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮০০ টিএমটি এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২২টি এলপিজি (LPG) আমদানি টার্মিনাল সক্রিয় রয়েছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। প্রায় এক মাসের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ক্রয়ের ব্যবস্থাও চলছে।
তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন ৫০ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার বিতরণ করছে। যদিও এক সময় আতঙ্কে বুকিং বেড়ে ৮৯ লক্ষে পৌঁছেছিল, এখন তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। কালোবাজারি রুখতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহও ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন থেকেই পূরণ হচ্ছে, ফলে এই ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরতা কম।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (MMSCMD) প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৯২ এমএমএসসিএমডি দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এলপিজির তুলনায় পিএনজির ক্ষেত্রে বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কম। পরিকাঠামোর দিক থেকেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র ৫৭টি ভৌগোলিক এলাকায় পিএনজি পরিষেবা ছিল, এখন তা বেড়ে ৩০০-রও বেশি এলাকায় পৌঁছে গেছে — যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


