Aaj India Desk,কলকাতা:পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন যত বাড়ছে, ততই তার আঁচ পড়ছে ভারতের জ্বালানি সেক্টরে।এলপিজি (LPG)নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তার মেঘ।এই পরিস্থিতিতেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কেন্দ্রকে সরাসরি বার্তা,”রাজ্যের মানুষের স্বার্থ ,বাংলা থেকে উৎপাদিত এপিজি (LPG) যেন বিদেশে না যায়।” শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দেন, জ্বালানি সঙ্কটের বোঝা কোনও ভাবেই সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো যাবে না। একই মঞ্চ থেকে SIR-এর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন (EC) ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।একদিকে যুদ্ধের প্রভাব, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর দুইয়ের মাঝেই বাংলার স্বার্থ রক্ষায় সরব।
গ্যাস সঙ্কট নিয়ে জল্পনা বাড়তেই আগাম সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দুর্গাপুরের অন্ডালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এই মুহূর্তে রাজ্যে পেট্রল-ডিজ়েল বা গ্যাসের ঘাটতি নেই, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলায় যে গ্যাস উৎপাদন হয়, তা বাংলার মানুষের জন্যই থাকা উচিত।” হলদিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস যেন কোনওভাবে রাজ্যের বাইরে চলে না যায়, তা নিয়েই কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক স্তরে হঠাৎ বদলি বা অন্য কোনও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যাতে জোগানে প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন মমতা।
এখানেই থামেননি তিনি। ভোটের সময় বাইরে থেকে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মী আসার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা তাঁদের জন্য জোগান দিতে গিয়ে বাংলার সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসে টান পড়তে পারে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বাইরের লোকের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাংলার মানুষের যেন কোনও অসুবিধা না হয়।”যুদ্ধের আবহে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ, তার মাঝেই রাজনৈতিক বার্তা সব মিলিয়ে কেন্দ্রকে চাপ বাড়ালেন মমতা।
পেট্রল-ডিজ়েলের শুল্ক কমানোর ঘোষণা ঘিরে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর প্রশ্ন, “শুল্ক কমালেই কি সত্যিই দামে স্বস্তি মিলবে?” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শুধু ঘোষণা নয় বাস্তবে কতটা দাম কমছে, সেটাই আসল বিষয়। শাড়ির দোকানের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আগে দাম বাড়িয়ে হাজারে নিয়ে গিয়ে, পরে কমিয়ে ৪০০ করলে কি সেটা সত্যিই কমা বলা যায়?” তাঁর দাবি, অতীতে বহুবার দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে, তার পরেই এই ‘শুল্ক কমানো’র ঘোষণা।তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমি চাই মানুষ সুবিধা পাক, তাদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়” এই বার্তাই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, শুল্ক কমানোর ঘোষণার আড়ালে বাস্তব স্বস্তি কতটা, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা।
SIR-এর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট ঘিরে বিস্ফোরক মমতা
SIR-এর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ প্রথম তালিকা নিয়েই স্পষ্টতা নেই, আর তার মধ্যেই নতুন তালিকা আসছে ধোঁয়াশার আবরণে।মমতার সরাসরি চ্যালেঞ্জ,”বুকের পাটা থাকলে পুরো লিস্ট প্রকাশ করুন।” কার নাম আছে, কার নাম বাদ তা জানার অধিকার মানুষের রয়েছে বলেই মত তাঁর। এই অস্বচ্ছতা গণতন্ত্রের পক্ষে মারাত্মক বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম সরানো হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “দেখে দেখে, বেছে বেছে নাম কাটা হচ্ছে এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতিকে “গণতন্ত্রের হত্যা” বলে উল্লেখ করে কার্যত কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলেন মমতা।
সব মিলিয়ে, SIR তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতা বনাম রাজনৈতিক পক্ষপাত এই বিতর্কেই ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
কমিশনের পর বিজেপির দিকেও তীব্র আক্রমণ
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনার সুর পেরিয়ে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে যা চলছে, তা “সুপার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে” এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। গণতন্ত্র বিপন্ন বলেও দাবি তাঁর। মমতার কথায়, বিজেপি ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক কাঠামোকেই মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমারের নামে ওয়াশিং মেশিন চলছে” ইঙ্গিত, সব কিছুই যেন পরিকল্পিতভাবে “গায়েব” করে দেওয়া হচ্ছে , এখানেই থামেননি তিনি। আরও একধাপ এগিয়ে বিজেপির শাসনব্যবস্থাকে “জমিদারি” বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, কমিশন থেকে কেন্দ্র সবকিছুকে একসঙ্গে নিশানা করে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিলেন মমতা।


