Aaj India Desk, নদিয়া : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকা অবস্থায় ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে (Training Camp) মুখ্যমন্ত্রীর বিজ্ঞাপন প্রদর্শনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়াল নদিয়ার রানাঘাটে।
শুক্রবার সকালে রানাঘাট ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটিতে থাকা কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার আগে প্রজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। সেই সময় ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, নির্বাচন বিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের প্রচার দেখানো নিয়মবিরুদ্ধ। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মীও প্রতিবাদে সামিল হন।
মারধরের অভিযোগ বিডিওর বিরুদ্ধে
সৈকতের অভিযোগ, প্রতিবাদের পরই রানাঘাট ১ নম্বর বিডিও অফিসের কয়েকজন কর্মী তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে ঘিরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে ভোটের দিনে বুথে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?” ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্যান্য ভোটকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা প্রশিক্ষণ বন্ধ করে স্কুল প্রাঙ্গণে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নির্বাচন ঘোষণার পর মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনও সরকারি প্রচার বা রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যাযোগ্য বিষয় প্রদর্শন করা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরের (Training Camp) উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি দেওয়া। সেখানে যদি সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়ে থাকে, তা নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, কার নির্দেশে হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী, এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর জরুরি। বিষয়টি প্রশাসনিক ত্রুটি নাকি ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এর কোনোটাই এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করেননি কর্তৃপক্ষ।
ভোটকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন
এর পাশাপাশি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই এক ভোটকর্মীর উপর হামলার অভিযোগ আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। নির্বাচন পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ হলেন ভোটকর্মীরা। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক দায়িত্ব। যদি প্রশিক্ষণ শিবিরেই (Training Camp) নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে ভোটের দিন মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই প্রেক্ষিতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত এই ঘটনার মীমাংসা হয় কিনা সেদিকেই এখন নজর।


