26 C
Kolkata
Thursday, March 26, 2026
spot_img

কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা, কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা পরীক্ষা হবে

Aaj India Desk, কলকাতা : আধিকারিক বদলি নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রইল নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)- এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মনে হলে যে কোনও আধিকারিককে সরানো বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে। এই যুক্তিই কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)-এ তুলে ধরেন কমিশনের আইনজীবী ডি . এস নাইডু (D. S. Naidu)। তাঁর বক্তব্য, কোনও আধিকারিকের উপস্থিতি যদি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে কমিশন সেই ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতেই পারে এটাই আইনি কাঠামোর অংশ।

ভোট ঘোষণা হতেই প্রশাসনে বড়সড় রদবদল পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনার একাধিক শীর্ষস্তরের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে বদলির নির্দেশ দেয় ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এমনকি রাত ১২টার সময় চিঠি পাঠিয়েও মুখ্যসচিবের বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। শুধু বদলি নয়, কয়েকজন আধিকারিককে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবেও পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। বিষয়টি এখন বিচারাধীন কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) -এ, যেখানে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা।

কতজন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং তাদের কোথায় পাঠানো হয়েছে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তালিকা বুধবার চেয়েছেন Chief Justice Sujay Pal। এদিন আদালতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন ( Election Commission of India)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “এই মামলা আসলে একটি ছদ্মবেশ; কেউ নিজের স্বার্থে অন্যকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।” মামলাটি দায়ের করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী আর্ক নাগ ( Ark Nag)। আদালতে এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলমান, এবং কমিশন নিজেদের পদক্ষেপের বৈধতা রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

জনস্বার্থ মামলার পক্ষের আইনজীবী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandyopadhyay) কমিশনের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, কমিশন আইনসভা দ্বারা গৃহীত বিধির বাইরে যেতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি বদলি প্রক্রিয়া অস্বচ্ছভাবে, ইচ্ছেমতো করা হয়, তাহলে নির্বাচন কীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হবে?” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ অবশ্যই জনস্বার্থে হতে হবে এবং আদালত সেই পদক্ষেপের স্বচ্ছতা ও বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক অবশ্যই সেই রাজ্য থেকে নেওয়া উচিত; অন্য রাজ্য থেকে আনতে চাইলে রাজ্যের সম্মতি আবশ্যক। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না, এবং রাজ্য থেকে সমস্ত শীর্ষ আমলা চলে গেলে প্রশাসন কীভাবে চলবে এটি বড় প্রশ্ন। কল্যাণ আরও উল্লেখ করেন, লোকসভা নির্বাচনের সময় কি কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের পরিবর্তন করা হয়? তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। তাঁর বিশ্বাসযোগ্য আধিকারিকদের ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। কমিশন এই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।” মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন