26 C
Kolkata
Thursday, March 26, 2026
spot_img

এলপিজি বুকিং সীমাবদ্ধ, মমতা হুঁশিয়ারি কেন্দ্রর বিরূদ্ধে

Aaj lndia Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ময়নাগুড়িতে সভা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এলপিজি (LPG ) সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নীতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ ছুঁড়লেন। দেশের রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার চললেও, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি মঙ্গলবার থেকে একে আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনার বাইরে যারা গ্রাহক, এবং যাদের দু’টি সিলিন্ডার আছে, তাদের একটির ডেলিভারি হওয়ার ৩৫ দিন পরেই দ্বিতীয়টি বুক করার সুযোগ মিলবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই পরিস্থিতি নিয়েই কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এমনটাই যে মানুষ আবার অতীতের দিনগুলোতে ফিরে যেতে বাধ্য হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিতর্কিত ও সমালোচনামূলক হিসেবে দেখছেন, কারণ তা সরাসরি কেন্দ্রের নীতি এবং সাধারণ মানুষদের দৈনন্দিন জীবনের অসুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কিছু সমালোচক মনে করছেন, মমতার এই মন্তব্য শুধু ভোটবাজারে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল নয়, বরং কেন্দ্রীয় নীতির কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ ছড়ানোর চেষ্টা। অন্যদিকে, মমতার সমর্থকরা বলছেন, তাঁর সতর্কবার্তা জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা মাত্র। সব মিলিয়ে, রান্নার গ্যাসের প্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের নিয়ম নিয়ে এই বিতর্কে রাজ্য -প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় নীতির মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা আগামী নির্বাচনী সময়কে আরও উত্তপ্ত করতে ।

তিনি আরও বলেন, “বিজেপির গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গেছে। মানুষ খেতে পারবে না, আবার পুরনো দিনের মতো অবস্থা ফিরে আসবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রের পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে তীক্ষ্ণভাবে সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার কেরোসিনের সরবরাহ বাড়াচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ রান্না করে খাবার বানাতে পারে। তাঁর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভাবে সমালোচনামূলক ও বিতর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তা সরাসরি কেন্দ্রের নীতি ও জনজীবনের অসুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত ।রাজ্য রাজনীতিকদের মতে, মমতার এই বক্তব্যে দুই দিকের বার্তা রয়েছে: একদিকে কেন্দ্রকে আক্রমণ, অন্যদিকে জনগণের সমস্যা সমাধানে রাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরণের বক্তব্য ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার কৌশলও হতে পারে।

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, এর আগে রাজ্যগুলিকে নিয়মিতভাবে প্রায় ১ লক্ষ কিলোলিটার কেরোসিন সরবরাহ করা হতো। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের ফলে গৃহস্থালির রান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সামান্য হলেও রিফ্রেশার সুবিধা বা স্বস্তি আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র রাজ্য মধ্যে সরবরাহের সমন্বয় এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দের এই পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন