Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) প্রাক্কালে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের আঁতাত নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বহুবার। এবার প্রচারে বেরিয়ে আবার সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন রূপে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের একাধিক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন তাতে স্পষ্ট যে প্রচারের শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস সংঘাতমুখী কৌশল নিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “সব সিদ্ধান্তই রাতের অন্ধকারে নেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “বিজেপি সব কিছু নিয়ে নিয়েছে। আমার কিছু নেই, শুধু মানুষ আছে।”
‘ন্যারেটিভ সেটিং’-এর প্রচেষ্টা
রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি মূলত ভোটের (Assembly Election) আগে ‘ন্যারেটিভ সেটিং’-এর প্রচেষ্টা যেখানে নির্বাচনকে শুধুমাত্র ফলাফলের লড়াই নয়, বরং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বনাম হস্তক্ষেপের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। SIR ভোটার তালিকা ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নতুন নয়, তবে এটিকে “রাতারাতি সিদ্ধান্ত” ও “পরিকল্পিত বঞ্চনা” হিসেবে তুলে ধরার মধ্যে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। একইসাথে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং বিজেপিকে কোণঠাসা করার জন্য মমতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটপ্রচারের কৌশলী পদক্ষেপ ?
উত্তরবঙ্গের মত এলাকায় যেখানে তৃনমূল ও বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে এই ধরনের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের কমিশনের উপর আস্থা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা করেছেন বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের। এই মুহূর্তে স্পষ্ট যে, নির্বাচন ২০২৬ (Assembly Election) শুধুমাত্র উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতির লড়াই নয়। ভোটার তালিকা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা এই তিনটি ইস্যুকে নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ভোটব্যাঙ্ক গঠনের চেষ্টা আগামী দিনেও চলবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলির এই মন্তব্য ও পালটা মন্তব্যের মাঝে কোন দলকে রাজ্যবাসী বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে তা বোঝা যাবে নিবার্চনের ফলাফলে।


