Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। তারই জেরে এলপিজি সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই গ্যাস বুকিংকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আসলে সমস্যা কোথায়?
গ্যাস ডিলারদের দাবি, এলপিজি বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের কথায়, এখন থেকে ৩৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে। তবে কেন্দ্র এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করেছে। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য – বুকিংয়ের নিয়মে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো তেল সংস্থাগুলিও জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। কেন্দ্র আরও জানায়, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে বুকিং সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশিকাই বহাল রয়েছে। শহর ও শহরতলিতে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের ব্যবধানেই গ্যাস বুকিং করা যাবে।
অন্যদিকে, সকালে খবর ছড়ায় যে বুকিংয়ের সময়সীমা বদলানো হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য, ডবল সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির ৩৫ দিন পরেই দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। গ্যাস ডিলার সংগঠনের নেতা বিজন বিহারী বিশ্বাসের দাবি, এই নির্দেশিকা সরকারি নয়, বরং তেল সংস্থাগুলির তরফে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সরকার অবশ্য সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে। জানানো হয়েছে, এলপিজির পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২.৩ লক্ষ টন এলপিজি বোঝাই ৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে অপেক্ষা করছে। আগামী সপ্তাহে আরও ২টি জাহাজ দেশের দুই বন্দরে পৌঁছবে।
পাশাপাশি, জ্বালানি নিয়ে কোনও ধরনের অবৈধ মজুত না করার জন্য সতর্ক করেছে কেন্দ্র। ব্ল্যাক মার্কেটিং ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এই বিভ্রান্তির জেরে সমস্যায় পড়েছেন ডেলিভারি কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, আগে যেখানে দিনে ৩০০টি বুকিং হত, এখন তা বেড়ে ৮০০-তে পৌঁছেছে। অথচ সরবরাহের গাড়ির সংখ্যা অপরিবর্তিত। ফলে সিলিন্ডার ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাহিদা ও বিশৃঙ্খলা।


