Aaj India, নয়াদিল্লি: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আবহ যখন তুঙ্গে, তখনই মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, সংসদে (Loksabha) পাস হওয়া ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে উদ্যোগী হচ্ছে কেন্দ্র। তবে সেই বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আসন্ন জনগণনার ওপর – এমনটাই আগে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই অবস্থানেই বদল আনতে সংশোধনী আনার পথে হাঁটছে কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই সংসদে (Loksabha) দুটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করতে পারে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আসন্ন জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিলটি পাসের সময় বলা হয়েছিল, প্রথমে জনগণনা সম্পন্ন হবে, তারপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে জনবিন্যাস নির্ধারণ করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং তার পরেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু এখন সেই শর্তই বাদ দিতে চাইছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের দাবি, বিলে উল্লেখিত আসন্ন জনগণনার শর্ত বাদ দেওয়া হচ্ছে, ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতেই হবে আসন পুনর্বিন্যাস।
কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, লোকসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ৮১৬-তে পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসনও ৪২ থেকে বেড়ে ৬৩ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কও বেড়ে দাঁড়াবে ন্যূনতম ৪০৯।
তবে এই সংশোধনী বিল পাস করানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, ফলে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষিতে গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah) নিজের বাসভবনে আঞ্চলিক দলগুলির সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও ওই বৈঠকে যোগ দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ফলে সংশোধনী বিলে তারা সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।


