Aaj lndia Desk, কলকাতা: ভাবছেন রাজ্যের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন? আর আগের মতো ইচ্ছামতো নয়!এবার থেকে আগে নিতে হবে অনুমতি তাও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)-র।চিকিৎসার সিদ্ধান্তও কি তবে এখন প্রশাসনের নজরে? নাকি এর আড়ালে অন্য কোনও বার্তা?
রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা এবার কি আর এত সহজ থাকবে? নতুন করে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় নবান্ন জানিয়ে দিল, মন্ত্রী বা তাঁদের পরিবারের কেউ যদি রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে চান, তাহলে আগে নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি এবং দ্য কলকাতা গেজেটে (The Kolkata Gazette) প্রকাশিত এই নিয়ম ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু করেছে জোর আলোচনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি? মন্ত্রীদের চিকিৎসা কি তবে এখন প্রশাসনিক অনুমতির উপর নির্ভরশীল? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সেই মেডিক্যাল বিল বিতর্ক? বাম আমল থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক থামেনি আজও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)-র সরকারের সময়েও বারবার উঠেছে অভিযোগ। তাহলে কি সেই খরচে লাগাম দিতেই এই নতুন পদক্ষেপ , নির্বাচন আসন্ন ভোটগণনা ৪ মে। ঠিক এই সময়েই এমন নির্দেশ এ কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা? নিয়ম না নিয়ন্ত্রণ এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।
এতদিন রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কোনও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হত না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দেখা যায়, একাধিক ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আর সেই বিপুল ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকেই।
এই পরিস্থিতিতেই নবান্নের নতুন পদক্ষেপ। এবার থেকে বাইরে চিকিৎসায় যাওয়ার আগে অনুমতি বাধ্যতামূলক হওয়ায় খরচের উপর নজরদারি অনেকটাই শক্ত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে যে চিকিৎসা বা শারীরিক পরীক্ষা রাজ্যের মধ্যেই সম্ভব, তার জন্য কেন বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়? নতুন নিয়মের ফলে সেই অপ্রয়োজনীয় খরচও কমানো যাবে।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নয় সরকারি খরচে লাগাম টানার একটি কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।তবে নিয়ম তো হলো , তবে কার্যকারিতা বাস্তবে কতটা জায়গা করে নেবে এখন সেটাই দেখার।


