Aaj India Desk, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় ভারতের পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনে দিল। হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মে গেলে তফসিলি জাতি (SC) মর্যাদা বাতিলের রায়ে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও এন ভি আঞ্জারিয়া জানিয়েছেন, সংবিধানের ‘Scheduled Castes Order, 1950’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে তফসিলি জাতির মর্যাদা নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তী সংশোধনে শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে এই সুবিধা আর বহাল থাকে না। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের চোখে “জাত” এখানে ধর্মের সঙ্গেই বাঁধা।
মামলার কেন্দ্রে ছিলেন এক ব্যক্তি, যিনি জন্মসূত্রে তফসিলি জাতিভুক্ত হলেও পরে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পাদরি হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে জাতিগতভাবে অপমান ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। সেই অভিযোগে তিনি SC/ST (Prevention of Atrocities) আইনের অধীনে মামলা করেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, ধর্মান্তরের ফলে তাঁর তফসিলি জাতি হিসেবে আইনি অধিকার আর প্রযোজ্য নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টও আগে রায়ে বলেছিল, খ্রিস্টান ধর্মে জাতিভেদ প্রথা নেই, ফলে SC মর্যাদা দাবি করা যায় না। সেই রায় মেনেই সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করে, আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টান ধর্ম পালন করছেন ফলে সেই অবস্থায় SC মর্যাদা দাবি করা আইনসঙ্গত নয়।
বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তফসিলি জাতি হিসেবে সংরক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। একই সঙ্গে SC/ST অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের সুরক্ষাও আর প্রযোজ্য হয় না। তবে ধর্মান্তরের পরেও সমাজে বৈষম্য অনেক ক্ষেত্রে থেকে যায়। তাহলে সংরক্ষণ সুবিধা কেন থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও, ধর্ম পরিবর্তনের কারণে সামাজিক সুরক্ষা হারানো কতটা ন্যায্য তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মান্তর আইন নিয়ে যখন রাজনৈতিক আলোচনা চলছে, তখন এই রায় সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই খ্রিস্টান ও মুসলিম দলিতদের জন্য সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। একাধিক কমিশন ও মামলায় এই বিষয়ে মতামত দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তা আইনি স্বীকৃতি পায়নি। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একদিকে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সংরক্ষণ নীতি, ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতার সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার পথও খুলে দিয়েছে।


