Aaj lndia Desk, হুগলি: ভোট যত সামনে আসছে ভোট-বিনোদনটাও যেন আরো বেশি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে! কেও হেঁসেলে সরাসরি হামলা চালাচ্ছে, কেও আবার দড়ি কেটে দিচ্ছে! যদিও এ সব নতুন না, ভোট ময়দানে এর আগে নজির কেড়েছিল হিরনের কীর্তি, ‘সাবান মাখিয়ে’ দেওয়া মনে আছে? এবার আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী ও অংশগ্রহণ করলেন এই বিনোদনে (Election Campaign), আরামবাগ বাজারে গিয়ে হঠাৎই প্রার্থী মিতা বাগ ( Mithali Bag) যেন হয়ে গেলেন ফুল-টাইম “চপ মাস্টার”।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে গল্প, হাসি আর তার মাঝেই কড়াইতে টপাটপ চপ! কেউ বলছে, “ভোট দেব কি দেব না জানি না, কিন্তু চপটা দারুণ হয়েছে!” রাজনীতি এখন আর শুধু ভাষণের মধ্যে নেই এখন সেটা ‘চপ ভাজা থেকে মন ভাজা’র খেলাও! মিতা বাগ (Mitali Bag )এই স্টাইল দেখে অনেকেই বলছেন, “এবার ভোটের মেনুতে নতুন আইটেম গরম গরম চপ!”
বাজারের ভিড়ে প্রচারের মাঝেই হঠাৎ “চপ-টার্ন”! ঘুরতে ঘুরতেই চোখে পড়ে কড়াই ভরা টগবগে তেলে চপ ভাজার দৃশ্য আর দেরি না করে সোজা ঢুকে পড়লেন দোকানে মিতা বাগ (Mitali Bag) কথা থেকে কাজে এক নিমেষে প্রার্থী থেকে তিনি হয়ে গেলেন “চপ-শেফ”! নিজের হাতে চপ ভাজা, আবার হাসিমুখে সেই চপ বিক্রিও। আশেপাশের মানুষজন তো অবাক ‘এটা কি প্রচার, না লাইভ কুকিং শো!’ পাশেই ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী, আরামবাগ পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান মমতা মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা। তবে সেদিন বাজারে আসল শোটা কিন্তু কড়াইয়ের সামনেই বেশ ভালো জমে উঠেছিল (Election Campaign) ।
চপের কড়াই ঘিরে তখন যেন ছোটখাটো মেলা! প্রার্থী মিতা বাগ (Mithali Bag) – এর হাতের চপ দেখতে আর খেতে ভিড় জমালেন কর্মী-সমর্থকরা হাসি, হাততালি আর উৎসাহে জমে উঠল পুরো পরিবেশ। তবে এই “চপ-শো”-এর মাঝেই ছিল রাজনীতির কড়া মশলা। ঠিক পাশের দেওয়ালে চোখে পড়ে বিজেপির লেখা কটাক্ষ “দরকার ছিল শিল্প, পিসি বলল লন্ডনের গল্প , যুবকরা চাইল কাজ, পিসি বলে চপ ভাজ।”
ফলে চপ ভাজা শুধু বিনোদনেই আটকে থাকেনি, হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক তরজার নতুন ইস্যু। একদিকে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে বিরোধীদের খোঁচা সব মিলিয়ে আরামবাগ বাজারে সকালটা যেন হয়ে উঠল “চপ-রাজনীতি”-র হটস্পট!
শনিবার পুরশুড়ার পালপাড়ার এক বাড়িতে ঢুকে আচমকাই চিত্রটা বদলে গেল। গ্যাস নেই, উনুনে রুটি বানাচ্ছেন গৃহবধূ এই দৃশ্য দেখেই আর চুপ করে থাকেননি তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি। মুহূর্তের মধ্যে হাতে তুলে নিলেন বেলন, আর শুরু হয়ে গেল রুটি বেলার লাইভ শো! কেউ ভাবেনি, ভোটের প্রচার গিয়ে এমন ‘কিচেন কানেকশন’ – এ পৌঁছবে। হেঁশেলের মধ্যেই কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান, হাসি-ঠাট্টা পুরো পরিবেশটা যেন একেবারে অন্য মুডে।
পার্থ নিজেও মজা করে জানালেন, “এটা একেবারে নতুন না, আগেও রুটি বানিয়েছি!” তবে তার সঙ্গেই বার্তা গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ যে সমস্যায় পড়ছেন, সেটা কাছ থেকে বুঝেই একটু হাত লাগানো।
রাজনীতির গরম হাওয়ায় এবার যোগ হল উনুনের আঁচ আর সেই আঁচেই পাকছে ‘ রুটি-সংযোগ ‘ !


