24 C
Kolkata
Tuesday, March 24, 2026
spot_img

নারী ভোটব্যাঙ্কেই নজর শাসক দলের : হেঁসেলে ঢুকে প্রচার ‘ প্রমীলা বাহিনী’র !

Aaj India Desk, বীরভূম : আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটব্যাঙ্ককে (women’s vote bank) আরও শক্তিশালী করতে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। হারানো জমি ফেরাতে দলীয় উদ্যোগে মহিলা কর্মীদের নিয়ে গঠন হলো প্রমীলা বাহিনী।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বীরভূম জেলার সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট, দুবরাজপুর ও সাঁইথিয়া শহরাঞ্চলে গত নির্বাচনে তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশেষ করে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে সিউড়ি পৌর এলাকায় প্রায় ৫,৮০০ ভোটের ব্যবধান শাসক দলের কাছে বেশ বড় ধাক্কা। এই প্রেক্ষাপটে নারী সংগঠনকে সামনে রেখে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু হয়েছে। ‘প্রমীলা বাহিনী’-র সদস্যরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের সমস্যাও শুনছেন।

কৌশল না কি ক্ষয়পূরণের চেষ্টা?

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল প্রচারের কৌশল নয়, বরং নারী ভোটব্যাঙ্ক (women’s vote bank) ধরে রাখার প্রয়াস। নারী ভোটারদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে রাজনৈতিক ক্ষয়পূরণ করার চেষ্টা হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মহিলা কর্মীদের ব্যবহার করে ঘরে ঘরে পৌঁছনোর কৌশল নতুন নয়। কিন্তু শুধুমাত্র প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরা দীর্ঘমেয়াদে ভোটারদের মনোভাব কতটা বদলাতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যেখানে বেকারত্ব, নাগরিক পরিষেবা ও দুর্নীতির অভিযোগ বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, সেখানে এই প্রচার কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তৃণমূলের বীরভূম জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “জেলা জুড়ে মহিলা কর্মীদের ঘরে ঘরে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” কাটোয়ায় দলীয় নেতৃত্বের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুফল তুলে ধরায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে। তবে বিরোধী বিজেপি এই প্রচারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের নেতাদের দাবি, শুধু বাড়ি বাড়ি প্রচার করে জনঅসন্তোষ ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকতেও কেন বাড়তি প্রচার?

রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক নারী ভোটার ইতিমধ্যেই সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় এসেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সেই প্রতিষ্ঠিত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ‘প্রমীলা বাহিনী’ নামিয়ে ঘরে ঘরে প্রচারের প্রয়োজন কেন দেখা দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আর্থিক অনুদানভিত্তিক প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে দলের ভিতরেই অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। পাশাপাশি, নগরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ বা বিরোধী প্রভাবের আশঙ্কাও এই অতিরিক্ত প্রচারের একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন